ঢাকা রবিবার, ১৮ই এপ্রিল ২০২১, ৬ই বৈশাখ ১৪২৮

করোনায় ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে সিলেটের পর্যটনশিল্প


প্রকাশিত:
১৩ মার্চ ২০২১ ২০:৩৯

আপডেট:
১৮ এপ্রিল ২০২১ ১২:৩৩

করোনার প্রভাব কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে সিলেটের পর্যটনশিল্প। দেশে করোনা সংক্রমণ কমে আসায় ও টিকার কার্যক্রম শুরুর পর থেকে সিলেটে বাড়ছে পর্যটকের পদচারণ। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের বাইরে বেড়ানোর সুযোগ না থাকায় অভ্যন্তরীণ পর্যটনে আরও আগ্রহ বাড়ছে পর্যটকদের। ফলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতদেরও সুদিন ফিরছে। করোনা পরিস্থিতির আর অবনতি না হলে গেল এক বছরে যে বিশাল ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, সিলেট বিভাগে পর্যটনশিল্পে জড়িত রয়েছেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে রয়েছে হোটেল, মোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা এবং পরিবহন, নৌকা, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প ব্যবসা। করোনা সংক্রমণের আগে এসব খাতে সিলেট বিভাগে গড়ে প্রতিদিন ৩ কোটি টাকার ব্যবসা হতো বলে জানিয়েছে সিলেট চেম্বার অব কমার্স। কিন্তু দেশে করোনা সংক্রমণে বন্ধ হয়ে যায় পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

বেকার হয়ে পড়েন এর সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার মানুষ। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত পর্যটনের দুয়ার বন্ধ ছিল। আগস্টের শেষের দিকে সীমিত পরিসরে পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হলেও করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় পর্যটকরা বেড়ানোর সাহস পাননি। ফলে স্থবির হয়ে পড়ে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক খাতগুলো।

তবে চলতি বছরের শুরু থেকে দেশে করোনা সংক্রমণ অনেকটা কমে এলে ভ্রমণপিয়াসুরা ধীরে ধীরে পর্যটনমুখী হন। বেড়ানোর জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় দেশের ভিতরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেই যাওয়া শুরু করেন। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও বাড়তে থাকে ব্যস্ততা। ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পেতে থাকে পর্যটনশিল্প। ৭ ফেব্রুয়ারি দেশে করোনার গণটিকা দেওয়া শুরুর পর সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোয় পর্যটকের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পায়। ১৮ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি টানা তিন দিন সরকারি ছুটি থাকায় সিলেটে লাখো পর্র্যটকের সমাগম হয়। এর পর থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার ভিড় বাড়ছে পর্যটকের। পর্যটকের সমাগম বাড়ায় ভেঙে পড়া পর্যটন ব্যবসায় নতুন আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছেন করোনা পরিস্থিতির অবনতি না হলে গেল এক বছরে এ খাতের সঙ্গে জড়িতদের যে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে তা হয়তো পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
এ প্রসঙ্গে সিলেট হোটেল অ্যান্ড গেস্টহাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমাত নূরী চৌধুরী জুয়েল বলেন, ‘করোনার কারণে সিলেটের পর্যটন খাত একদম ভেঙে পড়েছে। তবে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ও টিকাদান শুরু হওয়ায় পর্যটক আসতে শুরু করেছেন। এতে আশার আলো জাগছে। এ অবস্থা বিরাজমান থাকলে আগামীতে হয়তো ক্ষতিটা অনেক পুষিয়ে নেওয়া যাবে।’ তবে করোনার ক্ষতি পুষিয়ে যখন ব্যবসায়ীরা কিছুটা ঘরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তখন তাদের ওপর ভ্যাটের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সুমাত নূরী চৌধুরী জুয়েল। তিনি জানান, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্যবসায়ীরা যে পরিমাণ ভ্যাট দিয়েছিলেন তার চেয়ে ৫ ভাগ বেশি চাচ্ছেন কর্মকর্তারা। অথচ এখনো সে পরিমাণ ব্যবসা করতে পারছেন না হোটেল ব্যবসায়ীরা। ভ্যাটের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব বলেন, ধীরে ধীরে সিলেটের পর্যটন ব্যবসায়ের উন্নতি হচ্ছে। পর্যটকের সমাগমও বাড়ছে। এতে কিছুটা হলেও সংশ্লিষ্টদের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে।


বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top