ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২০শে জানুয়ারী ২০২২, ৮ই মাঘ ১৪২৮

খাগড়াছড়ির ঝরনা-পাহাড় হাতছানি দিয়ে ডাকছে


প্রকাশিত:
১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ ১২:২১

আপডেট:
২০ জানুয়ারী ২০২২ ০৭:৪৬

খাগড়াছড়ির ঝরনা-পাহাড়

পরিবেশ টিভি: বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, ঝরনা, নদী, পাহাড়িঝিরি, সর্পিল পথ, উঁচু পাহাড় আর বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ নিয়েই বৈচিত্র্যময় পার্বত্য চট্টগ্রাম। বিভিন্ন ভাষাভাষী ও জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে এখানে। এসব মানুষের জীবন সংগ্রাম কৃষ্টি-সংস্কৃতি বৈচিত্র্য পাহাড়ের ডানায় যুক্ত করেছে নতুন পর্যটন সম্ভাবনা। অসংখ্য ঝরনা আর বুনো পাহাড় মিলে এক জানা-অজানা রহস্যের নাম খাগড়াছড়ি। এখানে রয়েছে আকাশ-পাহাড়ের মিতালি চেঙ্গী ও মাইনি উপত্যকার বিস্তীর্ণ সমতল ভ‚-ভাগ ও উপজাতীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্যতা। বাংলার দার্জিলিং সাজেকসহ অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভ‚মি পার্বত্য জেলাগুলোর পাহাড়, ঝরনা পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। খাগড়াছড়ির কিছু দর্শনীয় স্পট

আলুটিলা রহস্যময় মহাসুরঙ্গ : খাগড়াছড়ি জেলার মূল শহর থেকে মাত্র সাত কিলোমিটার দূরে মাটিরাঙ্গা উপজেলায় অবস্থিত মহাসুরঙ্গ। বিধাতার এক অনন্য সৃষ্টি এই গুহার ওপরে রয়েছে সবুজের সমারোহ। পাহাড়ের চ‚ড়া থেকে ২৬৬ সিঁড়ির নিচে আলুটিলা পাহাড়ের পাদদেশে পাথর আর শিলামাটির ভাঁজে গড়া এই রহস্যময় সুরঙ্গ নামতে হবে বেশ সাবধানে। গেট থেকে সিঁড়ি পর্যন্ত চারপাশের পাহাড় ও প্রকৃতি বেশ উপভোগ্য। প্রবেশমুখ ও শেষ অংশ আলো-আঁধারিতে আচ্ছন্ন। গুহার মাঝে কালো অন্ধকারাচ্ছন্ন। চিকন বাসের ভেতরে কেরোসিন ও কাপড় ঢোকানো মশাল হাতে নিয়ে ঢুকতে হবে সুড়ঙ্গের ভেতর। ভেতরে প্রবাহমান শীতল জলের ধারা ও ঠান্ডা বাতাস বয়ে চলছে।

রিছাং ঝরনা : খাগড়াছড়ি আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রিছাং ঝরনা। স্থানীয় মারমা সম্প্রদায়ের ভাষায় এর নামকরণ হয়েছে। রি শব্দের অর্থ পানি আর ছাং শব্দের অর্থ গড়িয়ে পড়া। ২৫-৩০ হাত উঁচু পাহাড় থেকে আছরে পড়ছে ঝরনার জলধারা। ঢালু পাহাড় গড়িয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে এই প্রবাহ। মূল সড়ক থেকে রিছাং ঝরনায় যাওয়ার পথে চারদিকে পাহাড়ি প্রকৃতি মাঝে এক অনুপম অনুভ‚তি সৃষ্টি করে।

মায়াবীনি লেক : খাগড়াছড়ির দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি পর্যটন স্পট হচ্ছে মায়াবীনি লেক। খাগড়াছড়ি সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ভাইবোনছড়া এলাকায় এই লেক অবস্থিত। প্রায় ৪০ একর উঁচু-নিচুপাহাড়ি জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে এই পর্যটন কেন্দ্রটি।

অরণ্য কুটির ও পানছড়ি রাবার ড্যাম : খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় বিশ্বের সর্বোচ্চ দ্বিতীয় ও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৃহৎ বৌদ্ধমূর্তি সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে উল্টাছড়ি ইউনিয়নের শান্তিপুর নামক স্থানে। পানছড়ি উপজেলা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে গভীর অরণ্য বেষ্টিত বনভ‚মিতে ৬৫ একর জায়গার ওপর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শান্তির প্রতীক সুবিস্তীর্ণ তীর্থস্থান তথা একটি আদর্শ পর্যটন স্পট পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুটির। এখানে প্রতিদিন শত শত পুণার্থী ও পর্যটক আসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।

জেলা পরিষদ পার্ক : খাগড়াছড়ি শহরের সবচেয়ে কাছে অবস্থিত জেলা পরিষদ পার্ক যা হর্টিকালচার পার্ক নামে পরিচিত। শহরের জিরো মাইল এলাকায় দুটি পাহাড়কে একটি ব্রিজের মাধ্যমে একত্র করার মধ্য দিয়ে ২২ একর জায়গা জুড়ে ২০১১ সালে পার্কটি স্থাপিত হয়েছে। পার্কটির পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে রয়েছে হ্রদ। সেখানে নৌভ্রমণের ব্যবস্থাও রয়েছে।

বাংলার দার্জিলিং মেঘের রাজ্য সাজেক : সাজেক ভ্যালি রাঙ্গামাটি জেলার সর্বোত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা দক্ষিণে রাঙ্গামাটির লংগদু পূর্বে ভারতের মিজোরাম পশ্চিমে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা অবস্থিত। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়নের নাম হচ্ছে সাজেক। সাজেক রাঙ্গামাটি জেলায় হলেও ভৌগোলিক কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেক যাতায়াত অনেক সহজ। সাজেকের বসবাসকারীরা লুসাই পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা আদিবাসী। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা ১৮০০ ফুট। চারদিকে মনোরম সবুজ পাহাড় আর পাহাড় মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে আঁকা-বাঁকা সরু পিচঢালা সর্পিল রাস্তা। কখনও গাড়ি নিচে নামবে কখনও ওপরে উঠবে এভাবেই খাগড়াছড়ি থেকে ৭০ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে হবে। তারপর পৌঁছবেন কাক্সিক্ষত সাজেক। সাজেক এমন একটি জায়গা যেখানে একই দিনে প্রকৃতির তিন রকম রূপ উপভোগ করা যায়। কখনও গরম অনুভত হবে তারপর হয়তো হঠাৎ বৃষ্টি কিংবা চোখের পলকে মেঘের ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাবে চারপাশ।


বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top