ঢাকা বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬ই আশ্বিন ১৪২৭


বাংলাদেশে এনজিও গুলোর জন্য চ্যালেঞ্জিং বিষয়সমূহ


প্রকাশিত:
১৮ অক্টোবর ২০১৯ ১৯:১১

আপডেট:
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১২:৪৬

ছবি: গুগল

সমস্যাবহুল এই দেশে এনজিওর যাত্রা অনেকদিনের। কঠিন জীবনের সম্মুখীন হওয়া মানুষগুলোর মুখে একচিলতে হাসি ফোটানোর ও দুঃখ-দুর্যোগে পাশে থাকার ইচ্ছায় প্রকাশ ঘটে এনজিওর। সেই থেকে এই দেশের মানুষের হাসি কান্নায় মিশে আছে এই দেশের এনজিওগুলো। দেশ পেরিয়ে বিদেশেও নিজেদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। দেশি-বিদেশি এনজিওগুলো অবদান রেখে চলেছে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে।

একবিংশ শতাব্দির প্রথমার্ধে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামাজিক উন্নয়নের লক্ষে এনজিওগুলো তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করে। সত্তরের দশক হতে বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়নে এনজিওগুলো অবদান চোখে পরার মত।যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থার উন্নয়ন, স্বকর্মসংস্থান, দারিদ্র দূরীকরণ, শিক্ষা, নারী উন্নয়ন, শিশু উন্নয়ন, ক্ষুদ্রলোন, পরামর্শ, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা, তথ্য প্রদান, উন্নত প্রযুক্তির সাথে সাধারণ মানুষের পরিচয় ও ব্যবহার, ইত্যাদি নানাবিধ সামাজিক উন্নয়নের কাজে সরকারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে এনজিওগুলো। এনজিওগুলো যেমন বর্তমান সমস্যা নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে সুন্দর একটি আগামীর আশায়। ঠিক তেমনি ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য সমস্যা ও তার সমাধান নিয়েও পিছিয়ে নেই। দিনশেষে প্রতিটি মানুষের মুখের হাসিই ফোটানোই তাদের লক্ষ্য। হাসি ফোটানোর এই চলমান প্রচেষ্টায় দেশের সরকারসহ প্রতিটি মানুষ তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে থাকে।

আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশে এনজিওর অপরিহার্যতা ও কর্মপদ্ধতি বিবেচনা করে অত্যন্ত সরল ও স্বাভাবিক মনে হলেও এই দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানুষের মানসিক অবস্থা কার্যক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করে। আর তাই একটি এনজিওকে তার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মুখোমুখি হতে হয় অনেক চ্যালেঞ্জের।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাধারণত যে সমস্যাগুলির মুখোমুখি হতে হয়-

অর্থের অভাবঃ

এনজিওর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত, উপযুক্ত ও ক্রমাগত অর্থায়ন যোগার করা বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীলদেশের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য একটি বিষয়। বিভিন্ন দেশিয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান শর্তের ভিত্তিতে অর্থ প্রদান করলেও বেশির ভাগ সময় তা টেকসই হয় না তাছাড়া প্রেরিত অর্থের ক্ষুদ্র একটি অংশ মূল কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যয় হয়।

স্বৈরাচারী মনোভাবঃ

স্বভাবতই এনজিওর পরিচালকদের মাঝে স্বৈরাচারী মনোভাব দেখা দেয়। তারা শুধুমাত্র নিজেদের চিন্তাধারা দ্বারা সম্পূর্ণ কর্মকাণ্ড পরিচালিত করতে চায়। ফলে কর্তাব্যক্তিদের মাঝে সৃষ্টি হয় মতামতের বিভেদ। যা সম্পূর্ণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করে।

কৌশলগত পরিকল্পনার অনুপস্থিতিঃ

কোন কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া কোন কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় এনজিওগুলো সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই তাদের কার্যক্রম পরিচালিত করে। ফলে কার্যক্রম বাস্তবায়নে পরবর্তীতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

দুর্বল যোগাযোগঃ

এনজিও সেক্টরগুলোর মাঝে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। অধিকাংশ এনজিওর কাছে নির্ভরযোগ্য ইমেইল এবং ইন্টারনেট সংযোগে প্রবেশাধিকার সঠিক অ সহজ কোন ব্যবস্থা নেই।ফলে তারা সাধারণত বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় গুরুত্বের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার অভাবঃ

এনজিওগুলো পাস্পরিক কার্যক্রম উন্নয়নের আলোচনার বদলে অর্থনৈতিক দিকটি নিয়ে বেশি আগ্রহী থাকে। ফলে এনজিওর মূল কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হয়।

সীমিত ক্ষমতাঃ

কারিগরিক ও সাংগঠনিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে এনজিওগুলোর ক্ষমতার বিস্তার সীমিত। অর্থ তহবিল, সুশাসন, কারিগরি এলাকার উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এনজিওগুলোর দুর্বল ধারণক্ষমতা চিহ্নিত করা যায় যা বাংলাদেশের এনজিওর জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়।

প্রযুক্তি পরিবর্তনের গতিঃ

বর্তমানে বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার জিবনমান উন্নত করেছে। কিন্তু অধিকাংশক্ষেত্রে এনজিওগুলো প্রযুক্তির ব্যাবহারের গতির সাথে তাল মিলাতে সক্ষম হয় না। ফলে কার্যক্রম বাস্তবায়নে সমস্যার সম্মুখীন হয়।

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপঃ

বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এনজিওগুলো রাজনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হয়। দেশের অবস্থাভেদে এর পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু নেতিবাচক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ যে কোন এনজিওর জন্য বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়।

সমন্বয়হীনতাঃ

কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেকসময় কাজের মাঝে সমন্বয়হীনতা দেখা যায়। পরিচালক বা মাঠকর্মীদের বেলায়ও এই সমন্বয়হীনতা দৃষ্টিগোচর হয়। যা সম্পূর্ণ কার্যক্রমকে বাধা দান করে।

কর্মচারীদের বেতনঃ

সাধারণভাবে এনজিওর কর্মচারীদের বেতন অত্যন্ত কম হয়। এত অল্প বেতনে কাজ করার ফলে অধিকাংশ সময় তাদের কাজের প্রতি অনীহা দেখা দেয়। যার ফলে এনজিওর কার্যক্রম বাধার সম্মুখীন হয়।

প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাজের জন্য বিভিন্ন সমস্যা বা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন সবসময় হতে হয় মানুষকে। এনজিও সেক্টরও এর বাইরে নয়। তাই সমস্যার সমাধান করার মাধ্যমে, পরিকল্পিত উন্নয়নই আমাদের কাম্য। সেই উন্নয়নে উদ্ভাসিত হবে আমাদের দেশের মানুষ।

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top