ঢাকা রবিবার, ২৪শে অক্টোবর ২০২১, ১০ই কার্তিক ১৪২৮


পাহাড়ি বনভূমিতে একাডেমি স্থাপন পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে ৭ পরিবেশবাদী সংগঠনের চিঠি


প্রকাশিত:
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৩:৪৪

আপডেট:
২৪ অক্টোবর ২০২১ ২১:৫৩

কক্সবাজারে পাহাড়ি বনভূমিতে ‘বঙ্গবন্ধু একাডেমি অব পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন’ স্থাপনের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছে সাতটি পরিবেশবাদী সংগঠন। সংগঠনগুলোর দাবি একাডেমি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৭০০ একর জমি লিজ দেয়ার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় যে চিঠি দিয়েছে তা বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং দেশের প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন। চিঠি পাঠানো সংগঠনগুলো হলো-বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), নিজেরা করি, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রধান বন সংরক্ষক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ, কক্সবাজারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর রোববার চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বরাবর চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, যেখানে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ১৮৯ একর জমির উপর লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ন্যাশনাল একাডেমি অব এডমিনিস্ট্রেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্স ২১৫ একর জমির উপরে প্রতিষ্ঠিত, যেখানে সিভিল সার্ভিস প্রশিক্ষণের জন্য সাভারে ৫৪ একরের উপর একটি প্রশিক্ষণশালা রয়েছে, সেখানে পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল রক্ষিত বনভূমি ধ্বংস করে ৭০০ একর জমিতে একাডেমি স্থাপনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রয়োজনে বর্তমান ৫৪ একর জমির উপর নির্মিত বাংলাদেশ পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন সেন্টার এলাকা সম্প্রসারিত করা যেতে পারে।

বনভূমি সংকুচিত করে এবং বন, পাহাড়, বনজসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করে তার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর নাম যুক্ত করা তার প্রতি সম্মান নয় বরং অসম্মান প্রদর্শন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের কোনো পত্রেই ইচ্ছাকৃতভাবে ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে উল্লেখ করা হয় নাই যে এই দাগগুলোতে পাহাড়, রক্ষিত বন ও ছড়া রয়েছে এবং দাগ দুটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষিত এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের এমন অধিগ্রহণ প্রস্তাবের জবাবে বন বিভাগ ২০১৯ সালের ৬ই জানুয়ারি একটি পত্র মারফত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে স্পষ্ট অবগত করেছে যেÑ (ক) প্রস্তাবিত এলাকাটি রক্ষিত বনের অংশবিশেষ (খ) রক্ষিত বনভূমি খাসজমি হিসেবে ১নং খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত হলেও তা ‘বন্দোবস্তযোগ্য নয়’ মর্মে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের রেকর্ড রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধকরণের নির্দেশ রয়েছে; (গ) স্টেট একুইজিশন অ্যান্ড টেনাসি অ্যাক্ট ১৯৫০ অনুযায়ী বনভূমি নন রিটেইনেবল প্রোপার্টি (ঘ) প্রস্তাবিত এলাকাটি বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন বনায়নকৃত পাহাড়ি এলাকা এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পাহাড় ও পাহাড়ের ঢালুভূমি বন্দোবস্তযোগ্য নয় বরং তা বনায়নের জন্য সংরক্ষিত থাকবে, এবং (ঙ) ঝিলংজা মৌজায় প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষিত হওয়ায় এই এলাকাতে প্রাকৃতিক বন ও গাছপালা কর্তন বা আহরণ এবং ভূমির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট বা পরিবর্তন হতে পারে এমন সকল কাজ নিষিদ্ধ।

প্রস্তাবিত এলাকাটিতে উপকূলীয় বনায়নের আওতায় প্রায় ১০০ একর সৃজিত বাগান থাকায় এলাকাটি জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। এই রক্ষিত বনটিতে বিভিন্ন দুর্লভ প্রজাতিসহ প্রায় ৫৮ প্রজাতির বৃক্ষ আছে এবং এলাকাটি এশীয় বন্যহাতি, বানর, বন্য শূকর, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পাখির আবাসস্থল ও বিচরণক্ষেত্র। এসব কারণ দেখিয়ে আইনি বিধানাবলী সাপেক্ষে বন বিভাগ ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত অধিগ্রহণে আপত্তি তুলে।

যেহেতু প্রস্তাবিত ভূমি বনবিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন, তাই বনবিভাগকে পাশ কাটিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে এই জমি বন্দোবস্ত গ্রহণের সুযোগ নেই বলে মনে করে সংগঠনগুলো।।

সূত্রঃ মানবজমিন


বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top