ঢাকা মঙ্গলবার, ৩রা আগস্ট ২০২১, ১৯শে শ্রাবণ ১৪২৮

ঢাকার ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে সাভার


প্রকাশিত:
১১ মার্চ ২০২১ ১৪:৪০

আপডেট:
৩ আগস্ট ২০২১ ০৪:০৮

ঢাকার ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে সাভার

আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় পৌরসভা সাভারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলতে তেমন কিছু এখনো গড়ে ওঠেনি। নেই নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন। পুরো শহরই বলতে গেলে অপরিচ্ছন্ন। ঢাকা থেকে আমিন বাজার ও হেমায়েতপুর পার হলেই সাভার পৌরসভা এলাকা।

সাভারের ব্যাংক টাউন থেকে নয়াবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে কিছু দূর পরপরই ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে এ আবর্জনা। ফলে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে সাভার। ময়লা ফেলার নির্ধারিত জায়গা ও ডাস্টবিনের অভাবে আবর্জনার স্তূপ তৈরি হয়েছে যত্রতত্র। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ সাভারবাসী। সাভারের ঢাকা-আরিচা, নবীনগর-চন্দ্রা ও আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কের পাশে অর্ধশতাধিক ময়লার ভাগাড় গড়ে উঠেছে। দিন যতই যাচ্ছে মহাসড়কের দুই পাশে ময়লার স্তূপ ততই বড় হচ্ছে। স্থানীয় হাটবাজার, পাড়া-মহল্লা এমনকি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ফেলার স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মহাসড়ককে। ফলে সড়কের দুই পাশের বাতাস হয়ে উঠছে বিষাক্ত। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে উৎকট গন্ধে। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল শিক্ষার্থীরাসহ পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। পৌরসভার অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিদিন শত শত টন ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ওপরে। অথচ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না প্রথম শ্রেণির মর্যাদাসম্পন্ন সাভার পৌরসভা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিন সকালে পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মীরা ও বিভিন্ন বাসা বাড়ির লোকজন বিভিন্ন এলাকা মার্কেট ও মহল্লা থেকে এসব ময়লা-আবর্জনা এনে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের দুই পাশ কর্ণপাড়া, উলাইল, ডিপজল ফুডের সামনে, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের রাজ্জাকের কাঁচা বাজারের সামনে মহাসড়কের ওপর, ব্যাংক টাউন ব্রিজের গোড়ায়, গেন্ডা, পাকিজা, শিমুলতলা, রেডিও কলোনি, সিএনবি এলাকায় মহাসড়কের ওপর ফেলছে ময়লা। এ ছাড়াও বিরুলিয়া রোডের আইচানোয়াদ্দা ব্রিজের গোড়ার দুই পাশসহ পৌর এলাকার ভিতরের আরও বিভিন্ন সড়কের পাশে এসব আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ফলে ওইসব এলাকাসহ মহাসড়কের ওপরে এসব ময়লা-আবর্জনার স্তূপ থেকে দুর্গন্ধে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পথচারীসহ বিভিন্ন যানবাহনে চলাচলরত যাত্রী এবং এসব এলাকার বসবাসকারীরা ও গার্মেন্ট শ্রমিকরা। সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের দিলখুশা সুপার মার্কেটের পরিচালক নজরুল ইসলাম নজির বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমাদের মার্কেটের পাশে রাজ্জাক সাহেবের কাঁচা বাজারে সামনে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ রয়েছে। দুর্গন্ধে আমরা অতিষ্ঠ। ক্রেতারা মার্কেটে প্রবেশ করতে চায় না। ফলে কমে গেছে মার্কেটের বেচা-বিক্রি। তাই তিনি সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার রাখতে অনুরোধ জানান। এলাকার গামেন্টকর্মী খলিলুর রহমান বলেন, রাজ্জাকের কাঁচা বাজার ও চৌরুঙ্গী মার্কেটের সামনে সড়কে স্তূপ করে রাখা ময়লা-আবর্জনা ও মরা মুরগির গন্ধে চলাচল করতে কষ্ট হয়। মুখ চেপে শ্বাস বন্ধ করে হাঁটতে হয়। আবর্জনার পাশে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, আবাসিক এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকলেও এটা নিয়ে পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। পৌরবাসী হাফিজ উদ্দিন বলেন, এসব সরানোর জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু তাতে পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া বা অপসারণের কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড পেরিয়ে আইচানোয়াদ্দা, ব্যাংক কলোনি ও ব্যাংক টাউন আবাসিক এলাকার অনেক জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। রাস্তাঘাট ও ফুটপাত পরিচ্ছন্ন রাখতে সাভার পৌরসভার তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। রাস্তা নিয়মিত ঝাড়ু দেওয়া হয় না।

এ বিষয়ে সাভার পৌরসভার মেয়র আলহাজ আবদুল গণি মিয়া বলেন, বর্তমান মেয়রের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম সেøাগান ছিল ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’। শহরের আবর্জনার অব্যবস্থাপনার বিষয়টি স্বীকার করে সাভার পৌর সভার মেয়র আলহাজ আবদুল গনি বলেন, ?‘আমি পৃথিবীর অনেক দেশ ঘুরেছি। সত্যি, আমাদের এই সাভার পৌরসভার একেবারে ময়লা-আবর্জনার মধ্যে। পৌরসভার গাড়ি ও জনবল সংকট থাকার কারণে ডাম্পিং জোনে ময়লা ফেলা হচ্ছে না।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top