ঢাকা মঙ্গলবার, ৩রা আগস্ট ২০২১, ১৯শে শ্রাবণ ১৪২৮

পরিবেশ দূষনের নানা দিক


প্রকাশিত:
১৪ জুলাই ২০২১ ২৩:৪১

আপডেট:
৩ আগস্ট ২০২১ ০৪:১১

পরিবেশ সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সভ্যতার ক্রমবিকাশ থেকেই মানুষ গড়ে তুলেছে তার পরিবেশ । পরিবেশকে রুদ্ধ করে পরিবেশকে জয় করার চিন্তা ভাবনার যেন শেষ নেই। মানুষ নিজেদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে যেভাবে পরিবেশের উপর আঘাত হানছে তাতে পরিবেশ তার নিজস্ব আচরণে গোটা বিশ্বকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারছে। আমরা নিজেরাই এর জন্য দায়ী নিজেরাই নিজেদের পরিবেশকে ধ্বংস করে মহাবিপদ ডেকে নিয়ে আসছি। আর তার জন্য উন্নত বিশ্ব সবচেয়ে দায়ী। অপরিকল্পিত নগরায়ন শিল্পায়ন গড়ে তোলায় দূষিত হচ্ছে সুস্থ পরিবেশ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জলে ও স্থলে মহাশূন্যে আধিপত্য বিস্তার। কিন্তু মানুষের এ বিজয় মানুষকে পরাজয়ের মধ্যে ফেলে দিল। আজ আমরা এক ভয়ংকর সংকটের মুখোমুখি। কোন বিশেষ জাতি কিংবা কোন দেশের একার নয়। এই সংকট আজ বিশ্ব জুড়ে পৃথিবীর পরিবেশ নানাভাবে দূষিত হচ্ছে দিনের পর দিন। এ দূষণ পৃথিবীর পরিবেশকে নিয়ে যাচ্ছে ভয়ংকর ভবিষ্যতের দিকে। আজ জলে বিষ বাতাসে আতঙ্ক, মাটিতে মহাত্রাস।

মানুষের দৈনন্দিন কর্মকান্ডে সৃষ্ট ক্ষতিকর পদার্থ ও তা নির্গমনের কারণে স্বাভাবিক পরিবেশের উপর প্রভাব পড়লে তাকে দূষণ বলে। পরিবেশ দূষণ বিভিন্নভাবে হয়ে থাকে। বায়ু দূষণ, পানিদূষণ, শব্দ দূষণ এরমধ্যে অন্যতম। আমরা এত দিন দূষণ শব্দটি শুনে এসেছি, কিন্তু এর মধ্যে আছে পরিবেশের হাহাকার। পরিবেশ যত দূষণ হবে ঠিক ততই প্রতিশোধ নেবে মানব তথা সমগ্র জীবকুলের উপর। এখন আমাদের অবস্থা এমন পর্যায়ে পরেছে আমরা যদি সঠিক পথে না চলি তা হলে ভবিষ্যতের যে কুফল পরবে তার জন্য দায়ি হবে সুধুই মানুষ, আর কুফল ভোগ সমগ্র জীবকুল।

বিগত বছরে ৭৬ টির বেশি প্রজাতির প্রাণী এবং কয়েকশ প্রজাতির গাছপালা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আমাদের অথনৈতিক উন্নতি হয়েছে।এর পরিনামে বাতাসে প্রতিবছর ২০ কোটি মেট্রিক টন কার্বন মনোক্সাইড সঞ্চিত হচ্ছে। বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। প্রতিবছর ৬০ হেক্ট্রর জমি মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। প্রতি মিনিটে বালুকাকীর্ণ হয়ে পড়ছে ৪ হেক্ট্রর উর্বর ভূমি। এখনও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পরিবেশ দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই। দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। পাহাড় কাটা, ফসলি জমি ধ্বংস বনাঞ্চল উজাড় করে পরিবেশের উপর মারাত্মক আঘাত হানছে। একটি দেশে ২৫% বনভূমি থাকার কথা। সেখানে বাংলাদেশে বনভূমি রয়েছে মাত্র ১৬%।


বাংলাদেশে যত্রতত্রভাবে গড়ে উঠছে শিল্প কারখানা। প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে নদীর পানি, চলছে নির্বিচারে পাহাড় কাটাঁ, ফসলি জমি ধ্বংস। বনাঞ্চল উজাড় করে পরিবেশকে প্রতিনিয়ত দূষিত করে চলেছে। বাংলাদেশে যেভাবে নদী দূষণ শুরু হয়েছে তাতে অচিরেই নানা দুর্যোগের মুখোমুখি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। নদীর পানি ব্যবহার অনুপযোগী। ভূগর্ভস্থ পানির উপর অতি নির্ভরশীলতার কারণে ইতোমধ্যে সারা দেশে সুমিষ্ট জলের অভাব দেখা দিয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারে ভূগর্ভস্থ পানির লেভেল ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে ঘরবাড়ি বহুতল ভবন। অন্যদিকে মাটি কাটার কবলে ধ্বংস হচ্ছে ফসলি জমি। রাজনৈতিক আশ্রয় প্রশ্রয়েও বাড়ছে দূষণের মাত্র। দেশের নদী দখলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের হাত থাকায় ফলে দূষণ ও দখল নিয়নন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এমন প্রতিবেদন পত্রপত্রিকায় বহুবার প্রকাশিত হয়েছে । দেশের অধিকাংশ তরল বর্জ্যে উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানে নেই বর্জ্যে পরিশোধন (ইটিপি)। ফলে তরল বর্জ্যে দূষিত হয়ে পড়ছে নদীর পানি । পরিবেশ দূষণের মাত্রার পরিণতির কথা বিবেচনা করে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা পরিবেশ দূষণ মুক্ত রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্বের স্বার্থে পরিবেশ দূষণ মুক্ত রাখা দরকার। এ দূষণ রোধ করার জন্য জণগনকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। সকলকে পরিবেশ দূষণ রোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।

এসব দূষণ এর সবগুলো সম্পর্কে হয়তো আমরা অনেকেই কম জানি –

  • বায়ু দূষণ
  • পানি দূষণ
  • মৃত্তিকা দূষণ
  • আবর্জনা দূষণ
  • তেজষ্ক্রিয় দূষণ
  • শব্দ দূষণ
  • আলোক দূষণ
  • দৃশ্য দূষণ
  • তাপ দূষণ

চাষের জমি ভরাট হয়ে নগরায়ন হচ্ছে, উন্মুক্ত সমুদ্র সৈকত বন্দী হচ্ছে চিংড়ী চাষের কারণে, পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে বস্তি, অল্প যা কিছু কল-কারখানা আছে তার অশোধিত বর্জ্যে বিষাক্ত হয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন নদী নালা। জীবন সংগ্রামের এই অস্থির কষাঘাতে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাপে প্রকৃতি হচ্ছে নিষ্পেষিত, শোষিত ও দলিত। ক্ষুদ্র আয়তনের আমাদের এই দেশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃতি তথা পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচালনা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাঁচা মরার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কযুক্ত। বাস ট্রাক , লরি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া যত্রতত্র মুড়ির টিন, বাড়ি ঘরের ময়লা স্তূপের কারণে নদীপথে মান্দাতার আমলে লঞ্চ ষ্টীমার চলাচলের কারণে, স্যালো নৌকার আবির্ভাবের জন্য যেখানে সেখানে পরিবেশ দূষণকারী বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করেছে। বিশ্বের সর্বাধিক বায়ু দূষিত ১৫টি শহরের ১৩টি হলো এশিয়ায়। এই দূষণ এশিয়ায় বছরে ১০ লাখ লোকের মৃত্যুর কারণ।। আমরা সর্বদাই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবদ্ধির জন্য নিবেদিত। কিন্তু উন্নয়নের কেন্দ্র বিন্দু পরিবেশকে পাশ কাটিয়ে পরিবেশের উপর একছত্রভাবে জুলুম করে পক্ষান্তরে উন্নয়নের চাকাটির চলার পথই রুদ্ধ করছি। আজ তাই এহেন দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের সময় এসেছে। । শহর নগর এলাকা নির্মাণ বা সম্প্রসারণ, রাস্তাঘাট নির্মাণ ইত্যাদি কারণে এর ফলে নালা, ড্রেন ইত্যাদি মাটি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে এবং জমাট পানি উপচে পড়ে বিভিন্ন সমস্যার কারণ ঘটাচ্ছে। তাছাড়া পাহাড় কাটার কারণে স্থানে স্থানে ধস নামছে। সে পাহাড়গুলিসহ আশ পাশের পাহাড়গুলি ভংগুর হয়ে যাওয়ায় এদের স্থায়িত্ব হুমকির সম্মুখীন। পাশাপাশি নৈসর্গিক সৌন্দর্য বিনষ্ট হচ্ছে, তা বন্য প্রাণীর অস্তিত্ব লোপ পাচ্ছে এবং জৈব বৈচিত্র বিলুপ্তির শেষ পর্যায়ে উপনীত হচ্ছে পানি চলাচল তথা ঢালুতে পানি নামায় যে প্রাকৃতিক নালাগুলি ছিল, সেগুলির অধিকাংশই ভরাট হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে।

ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন বিশেষতঃ বাস ট্রাক থেকে নিঃসৃত কালো ধোঁয়া বায়ু দূষণ ঘটায়। তাই ত্রুটিমুক্ত যানবাহনের মান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানগুলো বাতিল করার মাধ্যমে বায়ু দূষণ কমানো সম্ভব। যানজট কমানোর জন্য গণ পরিবহনের আবশ্যকতা রয়েছে। ট্রাফিক জ্যাম এবং সড়কের উপর যত্রতত্র যানবাহনের কারণে বায়ু দূষণ বৃদ্ধি পায়। জনস্বাস্থ্যের পর বায়ু দূষণের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাবের সৃষ্টির ব্যাপারটি অনস্বীকার্য। শব্দ দূষণ শব্দ দূষণের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবন দুঃসহ হয়ে পরেছে। বিভিন্ন পরিবহনের অনবরত বাজানো হর্ণ মানুষের শ্রবণেন্দ্রীয়কে করে তুলেছে অতিষ্ঠ। একটি সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতা ৪৫ ডেসিবল গাড়ির হর্ণের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক হচ্ছে, হাইড্রলিক হর্ণ, ১৯৯৭ সালে তা আমদানি এবং বিক্রি বেআইনী ঘোষণা করা হলেও আজ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। চিকিৎসকদের মতে উচ্চ গ্রামের প্রতিদিন ৪০ সেকেন্ড করে শব্দ গ্রহণ করবে কিছু দিনের মধ্যেই শ্রবণ যন্ত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। উচ্চ শব্দ মানবদেহের জন্য বিশেষ ক্ষতির কারণ। পানি দূষণে আমরা পানিকে দূষিত করে তুলছি প্রতিনিয়ত।

শিল্পজাত বর্জ্য গার্হস্থ্য বর্জ্য ইত্যাদি নদীর পানিকে ক্রমশ দূষিত করে তুলছে। নদীর তীরে গড়ে উঠেছে শিল্প কারখানা, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ইত্যাদি আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নদীর বর্জ্য পদার্থ পরিত্যাগস্থল হিসাবে ব্যবহার করা হয়। সমুদ্র দূষিত হয়ে পড়ছে লোকালয়ে আবর্জনা কীটনাশক রাসায়নিক পদার্থ, তেজষ্ক্রিয় বর্জ্য পদার্থ, সমুদ্রগামী জাহাজ, সামুদ্রিক তেলখনির তেল নিঃসরনের কারণে সমস্ত বর্জ্য সমুদ্রে মাছের ডিম পাড়া সামুদ্রিক প্রাণী উদ্ভিদের দৃপ্তি ও বিকাশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে বিবিধ বর্জ্যের কারণে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা হ্রা্‌স পাওয়ায় সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়ে। বর্জ পরিবেশ দূষণে ক্ষতিকর পরিবেশ সংর্‌ক্ষণ আইন-১৯৯৫ এর আওতায় ১৯৯৭ সালে সরকার ঘোষিত কারকারখানার নির্গত ময়লা পানি ও বর্জ্য নির্গমনের গুণগতমান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিবেশেগত ছাড়পত্র কোন শিল্প প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়ার একটি অংশ একথা উল্লেখ করে সুপারিশ করা হয়েছে শিল্প কারখানার কঠিন তরল ও বায়বীয় বর্জ্য ফেলার যথাযোগ্য স্থান নির্ধারণ এবং এগুলো কঠোরভাবে কার্যকর করার জন্য পরিবেশ আদালত স্থাপন, পলিথিনব্যাগ পচনশীল না হওয়ায় সহজে বিনষ্ট হয় না। পয়ঃপ্রণালীর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পরিবেশের মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করে। কঠিন বর্জ্য পদার্থ যেমন – বোতল, টিনের ক্যান, কাঁচ বা কাগজের সামগ্রী, রিসাইক্লিং এবং আবর্জনাকে সারের বর্জ্যকে রিসাইকল্‌ড কাগজে, বর্জ্য প্লাষ্টিককে বার্নিশের কাজে ব্যবহৃত নতুন রঞ্জক ও ডাবের খোসাকে জ্বালানিতে পরিণত করার প্রযুক্তিকে উৎসাহিত করা। মেডিকেল বর্জ্য ফেলার যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ছাড়া কো্‌ন এলাকায় হাসপাতাল বা ক্লিনিকের নির্মাণের স্থান নির্দিষ্ট করতে না দেওয়া। উপযুক্ত পরিবহণ ব্যবস্থা আবর্জনা ফেলার নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি পর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন, মল নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিবেশ সহায়ক প্রযুক্তির ব্যবহার চালূ করা. অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ও পয়ঃনালা ব্যবস্থা আবর্জনা সংগ্রহ ব্যবস্থায় জটিলতা রয়েছে। আমাদেরকে এখন উন্নয়ন পরিবেশের সংঘাতের আবর্তে হোচট খেয়ে চলতে হচ্ছে। গোটাবিশ্ব আজ পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিঘ্ন। কারণ সুন্দর, দূষণমুক্ত পরিবেশ বিশ্বে প্রতিটি মানুষেরই কাম্য দ্রুত নগরায়ন ও শিল্পায়ন পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে পরিবেশ দূষণের মাত্রা যেভাবে দিন দিন বেড়ে চলছে তাতে করে অদূর ভবিষতেই পৃথিবী মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাবে। বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশে পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বিধিবিধান এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ দ্বারা উন্নত দেশগুলি তাদের পরিবেশ রক্ষা করছে। এদের মতো চলুন আমরাও চেষ্টা করি। একটু সচেতন হলে পরিবশটা রক্ষা করা খুব্‌ সহজ কাজ। বস্তুত বিগত কয়েক বছর দেশে পরিবেশগত সমস্যা যেমন প্রকট হয়েছে সাথে সাথে পরিবেশ বিষয়ে মানুষের আগ্রহও সচেতনতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নয়ন কর্মী এবং নীতি নির্ধারকদের মধ্যে পরিবেশের বিভিন্ন বিষয় বর্তমানে ব্যাপক গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হচ্ছে ।

 

 

জলবায়ু পরিবর্তন কি? এর প্রভাবে কি হয়?

জলবায়ু পরিবর্তন কি? 

আজকাল অনেক শীতপ্রধান দেশেও শীতকালে সতেজ সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো গ্রীষ্মকালে জন্মিয়ে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত স্টোরেজ থেকে পরে আনা নয়। এগুলো বহুদূরের বিষুবীয় উষ্ণ অঞ্চলের কোন দেশে উৎপন্ন নয়। পক্ষান্তরে শীতকালেই স্থানীয়ভাবে গ্রীনহাউসে উষ্ণ ও আলোকিত ঘরে উৎপন্ন সবজি – একদম সতেজ। গ্রীনহাউস আমাদের পক্ষে এক ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

সহজভাবে বলতে গেলে গ্রীনহাউস হচ্ছে একটা স্বচ্ছ আস্তরণ দিয়ে বানানো ঘর। এই স্বচ্ছ আস্তরণের মধ্য দিয়ে high frequency সূর্য্যরশ্মি প্রবেশ করতে পারে কিন্তু low frequency প্রতিফলিত ও বিকীরিত রশ্মি আস্তরণের বাইরে যেতে পারে না। ফলে আস্তরণের মধ্যে ঘরের উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় যা বাইরের তুলনায় বেশি। এবার সারা পৃথিবীকে একটি বড় গ্রীনহাউস হিসেবে কল্পনা করা যেতে পারে যেখানে গ্রীনহাউস গ্যাস বায়ুমন্ডলের বাইরে একটা কম্বলের ন্যায় আস্তরণ তৈরী করে, যার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ে। সহজেই অনুমেয়, যদি এই গ্রীনহাউস গ্যাসগুলো বায়ুমন্ডলে না থাকত তাহলে পৃথিবীর তাপমাত্রা অনেক কম হত। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল, এই গ্রীনহাউস গ্যাসগুলো সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে দ্রুতহারে বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে অভিশাপ বয়ে এনেছে। এই অভিশাপের নাম বৈশ্বিক উষ্ণায়ন।

কোন স্থানের কোন এক নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুর অবস্থাকে আবহাওয়া বলে। অপরপক্ষে, জলবায়ু হল ঐ স্থানের দীর্ঘদিনের আবহাওয়ার গড় অবস্থা। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, বাংলাদেশের জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ, আবার ভারতের থর মরভূমির জলবায়ু উষ্ণ ও শুষ্ক। জলবায়ুর পরিবর্তন হল দীর্ঘ দিনের জলবায়ুর ধরণে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন ঘটা। হিমালয়ের হিমবাহ এক গুরুত্বপূর্ণ পানির যোগানদাতা। কিন্তু বিগত দশকগুলোতে হিমালয়ের হিমবাহের দ্রুত গলনের ফলে হিমবাহের সংকোচন ঘটছে। বিজ্ঞানীদের মতে, হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুতগলনের পিছনে পৃথিবীর তাপমাত্রা দ্রুতহারে বাড়ার প্রভাব রয়েছে। পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা গত ১০০ বছরে গড়ে প্রায় ০.৭৪ (+/- ০.১৮) ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধির পরিমাণপৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন মাত্রায় দেখা দিচ্ছে। যেমন উত্তর গোলার্ধের উষ্ণতা দক্ষিণ গোলার্ধের চেয়ে দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের উপর আন্তঃরাষ্ট্রীয় জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেল (Intergovernmental Panel on Climate Change, IPCC) এই উষ্ণতা বৃদ্ধির পিছনে মনুষ্যজনিত উষ্ণতা বৃদ্ধিকারক গ্রীনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধিকে মূলতঃ দায়ী করেছে। যদিও পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের পিছনে কিছু প্রাকৃতিক কারণও দায়ী, কিন্তু তার প্রভাব অনেক কম ও অনেক ধীর প্রকৃতির।

পৃথিবীর উষ্ণতা মুলতঃ দুটি কারণে বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রাকৃতিক কারণ ও মনুষ্যজনিত উষ্ণতা বৃদ্ধিকারক গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি। প্রাকৃতিক কারণগুলোর মধ্যে পৃথিবীর অক্ষরেখার পরিবর্তন, সূর্যরশ্মির পরিবর্তন, মহাসাগরীয় পরিবর্তন ও আগ্নেয়গিরির অগ্নোৎপাত মুলতঃ দায়ী। কতিপয় বিশিষ্ট বিজ্ঞানী মনুষ্যজনিত উষ্ণতা বৃদ্ধিকারক গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ বৃদ্ধিকে কর্তমান কালের উষ্ণতাবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই গ্রীনহাউস গ্যাসগুলোর মধ্যে কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO2), জলীয়বাষ্প, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরো-ফ্লোরো-কার্বন (CFC) অন্তর্ভূক্ত। এসব গ্রীনহাউস গ্যাস পৃথিবীর চারপাশে কম্বলের মতো একটা আবরণ তৈরী করে, যা ভেদ করে সূর্যরশ্মি প্রবেশ করতে পারে, কিন্তু বের হতে পারে না। এর ফলে ভূপৃষ্ঠ-সংলগ্ন বায়ুমন্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়।

পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির পিছনে বহুলাংশে দায়ী কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর পরিমাণ প্রাক্-শিল্পযুগ সময়ের (১৭৫০ সাল) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত ১০০ ppmv (parts per million by volume) বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মধ্যে বিগত ৩০-৪০ বছরেই প্রায় ৫০ppmv বৃদ্ধি পেয়েছে। সভ্যতা বিকাশের জন্য আমরা বহুলাংশে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি জীবাশ্ম জ্বালানির উপর, যা প্রচুর পরিমাণেকার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করে। আবার দ্রুতহারে বন-ধ্বংস ও ভূমিবিন্যাসের পরিবর্তন কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণকে বাড়িয়ে দিচ্ছে, কারণ উদ্ভিদ কার্বন-ডাই-অক্সাইডের সঞ্চয় ভান্ডার হিসেবে কাজ করে। কিন্তু বন ধ্বংসের ফলে সেই কার্বন-ডাই-অক্সাইড বায়ুমন্ডলে মুক্ত অবস্থায় থাকে।

সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে গ্রীনহাউস গ্যাসের নিঃসরণের হার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গ্রীনহাউস গ্যাসের নিঃসরণের হার শিল্পোন্নত ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশগুলো যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, কানাডা, জাপান, অষ্ট্রেলিয়া, জার্মানী, ফ্রান্স, ইতালিতে অনেক বেশী। আবার বিগত বছরগুলোতে ভারত ও চীনের গ্রীনহাউস গ্যাসের নিঃসরণের হার অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। কতিপয় গবেষক জানিয়েছেন চীনের উন্নয়নের মাত্রা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে চীনের গ্রীনহাউস গ্যাসের নিঃসরণের হার যুক্তরাষ্ট্রের হারকে ছাড়িয়ে যাবে।

গ্রীনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে ১৯৯৭ সালে জাপানের কিয়োটো শহরে একটা প্রটোকল গঠন করা হয়, যা ‘কিয়োটো প্রটোকল’ নামে পরিচিত, যাতে ৩৭টি শিল্পপ্রধান দেশ তাদের গ্রীনহাউস গ্যাসের নিঃসরণের হার কমানোর লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে। এই লক্ষ্যমাত্রা স্থির করাই যথেষ্ট নয়, সত্যিকার অর্থে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। এমনকি বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখিয়েছেন, এখনই যদি কোন দৈবক্রমে মনুষ্যজনিত গ্রীনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ করা যায়, তারপরও বিশ্বের তাপমাত্রা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পেতেই থাকবে, যদিও বৃদ্ধির হার বর্তমান হারের চেয়ে অনেক কম হবে। কারণ হল বর্তমানে বায়ুমন্ডলে গ্রীনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেশী এবং মুখ্য গ্রীনহাউস গ্যাস কার্বন-ডাই-অক্সাইড-এর দীর্ঘস্থায়ী জীবন। তার অর্থ আমাদের যেমন নিঃসরণ মাত্রা কমাতে হবে, সাথে সাথে জলবায়ুর পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

পৃথিবীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, ভূমিবিন্যাস ইত্যাদি তথ্যকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বিজ্ঞানীগণ দেখিয়েছেন, একুশ শতাব্দীর শেষ নাগাদ মুখ্য গ্রীনহাউস গ্যাস কার্বন-ডাই-অক্সাইডের এর পরিমাণ প্রাক্-শিল্পযুগের তুলনায় দুই গুণ থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সব গ্রীনহাউস গ্যাস বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে কতিপয় বিশিষ্ট গবেষক কম্পিউটার মডেলের সাহায্যে দেখিয়েছেন যে একবিংশ শতাব্দীতে ভূপৃষ্ঠ-সংলগ্ন গড় উষ্ণতা প্রায় ১.১ থেকে ৬.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও এই বৃদ্ধির পরিমাণ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন মাত্রায় দেখা যাবে। তেমনি কোনো নির্দিষ্ট স্থানে শীত ও গ্রীষ্মে এই বৃদ্ধির পরিমাণে তারতম্য ঘটতে পারে। বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন ঘটতে পারে। যেমন বৃষ্টিপাতের পরিমাণপরিবর্তন, ঘনঘন তাপ প্রবাহ, বন্যা ও খরার প্রাদুর্ভাব, পানির প্রয়োজন ও যোগানের পার্থক্য, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, কৃষি ক্ষেত্রে ফলনে খারাপ প্রভাব, ইকোলজিতে পরিবর্তন, বিদ্যুত শক্তির চাহিদা বৃদ্ধি এবং মানুষের স্বাস্থ্যে লক্ষ্যণীয় প্রভাব পড়তে পারে। যদিওবিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব পৃথিবীর সর্বত্র একই ভাবে এবং একই মাত্রায় হয়তোবা দেখা যাবে না।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কিছু গবেষক জানিয়েছেন, ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধি কৃষি ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে যা সামাজিকও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশ্বের তাপমাত্রার বৃদ্ধি বাংলাদেশের কোন কোন ক্ষেত্রে কিভাবে প্রভাব ফেলতে পারে তার জন্যে উপযুক্ত কম্পিউটার মডেলের সাহায্যে স্থানীয় তথ্যকে কাজে লাগিয়ে বহুবিদ গবেষণা করার প্রয়োজন রয়েছে।

একথা সত্য যে জলবায়ুর পরির্বতন একটা বৈশ্বিক সমস্যা এবং এই সমস্যা সৃষ্টির পিছনে বাংলাদেশ বা বৃহত্তর বাংলার জনগণের ভূমিকা খুবই নগন্য। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দুই বাংলা হয়ত এড়াতে পারবে না, কিন্তু আমাদের সচেতন ও তৎপর হতে হবে যাতে ক্ষতিকারক প্রভাবকে লঘু করার জন্য আমরা যথাসময়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারি।

কি ঘটছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ? 

গত ৫০ বছর ধরে ক্রমাগত ভাবে ফসিল ফুয়েল বা পেট্রোলিয়াম জাতীয় জ্বালানী ব্যবহারের ফলে কার্বন ডাইঅক্সাইড আর গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

factorysmoke

প্রাক শিল্প যুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত নিম্ন বায়ুমণ্ডলে ৩০% পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইডের বৃদ্ধি ঘটেছে যা বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়িয়েছে আর তার সাথে বাড়িয়েছে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীকুলের স্বাস্থ্য ঝুঁকি।অতি তাপমাত্রা জনিত কারণে মৃত্যু ছাড়াও আমরা আক্রান্ত হই নানা প্রকার সংক্রামক ব্যাধিতে।

গত ৫০ বছর ধরে ক্রমাগত ভাবে ফসিল ফুয়েল বা পেট্রোলিয়াম জাতীয় জ্বালানী ব্যবহারের ফলে কার্বন ডাইঅক্সাইড আর গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।প্রাক শিল্প যুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত নিম্ন বায়ুমণ্ডলে ৩০% পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইডের বৃদ্ধি ঘটেছে যা বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়িয়েছে আর তার সাথে বাড়িয়েছে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীকুলের স্বাস্থ্য ঝুঁকি।অতি তাপমাত্রা জনিত কারণে মৃত্যু ছাড়াও আমরা আক্রান্ত হই নানা প্রকার সংক্রামক ব্যাধিতে।

ক্রান্তীয় থেকে সুমেরু,প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকায় আবহাওয়ার প্রভাব এসেছে কখনো শান্তির বারতা হয়ে কখনো ধ্বংসের দামামা নিয়ে।১৯৯০ দশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ৬০০০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, ঘরবাড়ি হারিয়েছেন বহু। শতকরা ৯৫ ভাগ দুর্যোগ এসেছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।

 তাপমাত্রার তীব্র আর স্বল্পমেয়াদী ওঠানামাও গুরুতরভাবে স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হাইপারথার্মিয়া অথবা অতিরিক্ত ঠান্ডায় হাইপোথারমিয়া দেখা দিতে পারে যা  হৃদপিণ্ড ও শ্বাসযন্ত্রের রোগ বৃদ্ধি করে মৃত্যুর হার বাড়াতে পারে বহুগুণ।সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, ২০০৩ ছিল ইউরোপের সবথেকে উষ্ণতম বছর এবং অন্য যেকোনো বছরের চেয়ে ৭০০০০ বেশী লোকের মৃত্যু ঘটে সে বছর।

চরম বা অধিক পমাত্রায় বায়ুমণ্ডলে পরাগ এবং বায়ু তারিত অতিপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী বস্তুর আধিক্য বেশী দেখা যায় যা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট রোগের উৎস হিসেবে কাজ করে।বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ৩০০ মিলিয়ন মানুষ মারা যায় এসব রোগে ভুগে।

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাড়ছে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা যা বহু মাত্রায় ঘটায় উপকূলীয় বন্যা,   বাড়িয়ে দেয় জনসংখ্যা স্থানচ্যুতি।পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী বাস করছে সমুদ্রের ৬০ কি,মি, তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে।অতিমাত্রায় বন্যার ফলে বাড়ছে মৃত্যু হার, সুপেয় পানি হচ্ছে অপ্রতুল আর জীবানুবাহিত রোগে ভুগে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে মিলিয়ন মিলিয়ন শিশু। অনেকক্ষেত্রে জনসংখ্যা স্থানচ্যুতির ফলে বাড়ছে সামাজিক কলহ এবং সামাজিক স্খলন।

climate-change-rising-se-001

দ্রুত পরিবর্তনশীল বৃষ্টিপাত বণ্টন আর অসময়ে খরার ফলে বিশ্বব্যাপী সুপেয় পানির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ। প্রতি দশ জনে চারজন পানি ঘাটতির শিকার হোন। পানির অভাব এবং বিশুদ্ধ পানির সঠিক মাত্রায় ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারায় ডাইরিয়ার মতো মারাত্মক রোগে প্রতি বছর ২.২ মিলিয়ন মানুষ প্রাণ হারায়। এছাড়াও ট্রাকোমার মতো মারাত্মক সংক্রামক রোগে চোখ হারান অনেকে।

water1

সঠিক মাত্রায় পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত না হওয়ায় দুর-দুরান্ত থেকে পানি বহনকালে পানি দূষিত হবার সম্ভাবনা থাকছে, যার ফলে ঘটছে নানা প্রকার পানি বাহিত রোগ।

জলবায়ু সংবেদনশীল রোগ গুলোকে আ মুহূর্তে বলা হচ্ছে বৃহত্তম প্রাকৃতিক খুনী। পানি দূষণ এবং অন্যান্য জলবায়ু সম্পর্কিত এবং আবহাওয়া জনিত কারণে ম্যালেরিয়া, ডাইরিয়া, এবং প্রোটিন অপুষ্টি রোগে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রাণ হারাচ্ছেন ৩ মিলিয়ন মানুষ যার এক তৃতীয়াংশই আফ্রিকায়।

অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি আর বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দ্রুতহারে কমছে খাদ্য উৎপাদন যা প্রকৃতপক্ষে এসব দেশগুলোতে তৈরি করছে দুর্ভিক্ষ আর শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে অপুষ্টি জনিত নানা রোগে। শুধু তাই নয়, অপুষ্টিতে আক্রান্ত এসব শিশুর বেশিরভাগ আক্রান্ত হয় ম্যালেরিয়া, ডাইরিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগে।


বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top