ঢাকা রবিবার, ১৮ই এপ্রিল ২০২১, ৬ই বৈশাখ ১৪২৮

পরিবেশ দূষণে বিনিয়োগ কোটি কোটি টাকা,পরিবেশ সুরক্ষায় নেই কোনো বিনিয়োগ


প্রকাশিত:
১ মার্চ ২০২১ ১৫:২২

আপডেট:
১৮ এপ্রিল ২০২১ ১২:২২

পরিবেশ দূষণে বিনিয়োগ কোটি কোটি টাকা

 

কয়লা আর তেল খাত লাভজনক হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকের বিনিয়োগ বা ঋণ সুবিধা অনেক বেশি এসব খাতে। কিন্তু পরিবেশ সুরক্ষায় নেই উল্লেখযোগ্য কোনো বিনিয়োগ। জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে শুধু এশিয়ার ব্যাংকগুলোই। সাম্প্রতিক সময়ে একটি রিপোর্টে ওঠে এসেছে এ তথ্য। রিপোর্ট বলছে, গত দুই বছরে কয়লা শিল্পে ৩১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ঋণ সুবিধা দিয়েছে সারাবিশ্বের ৩৮০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক।

কয়েকটি পরিবেশ গবেষণা সংস্থার যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়লা খাতে শীর্ষ ঋণদাতা ব্যাংকের মধ্যে তিনটিই জাপানের। ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত কয়লা খাতে সাড়ে সাত হাজার কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে জাপানের তিন ব্যাংক।

যদিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বরাবরই বলে আসছিলেন, পরিবেশ দূষণ করে এমন কোনো প্রকল্পে আর ঋণ সহায়তা দেয়া হবে না। পাশাপাশি কয়লা খাতে বিনিয়োগের জন্য সুবিধা দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ঋণও দেয়া হবে না। তবে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি সমর্থন করে যেসব প্রকল্প পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেগুলো বাস্তায়বনে বিশেষ সুবিধায় ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো। ব্যাংকগুলোর অভিযোগ, বেসরকারি সংস্থার কোনো অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। তিনি জানান, কার্বন নিঃসরণ রোধে বিভিন্ন প্রকল্পে স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

জাপান যখন পরিবেশ দূষণে বিনিয়োগে তুঙ্গে, তখন যুক্তরাষ্ট্রও এক্ষেত্রে ধরে রেখেছে দ্বিতীয় অবস্থান। জ্বালানি খাত সমৃদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলো ঋণ দিয়েছে ছয় হাজার ৭০০ কোটি ডলার। রিপোর্টে দেখা গেছে, সারাবিশ্বের জ্বালানি খাতে যদি এক ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়ে থাকে, এর মধ্যে ৬০ হাজার কোটি ডলার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে গত দুই বছরে পরিবেশ দূষণে সহায়তা করে এমন সব কয়লা খাতে চীনের ব্যাংকগুলো ঋণ দিয়েছে ৪৬ হাজার কোটি ডলার। বিশ্বে অন্তত ৯৩৪টি কোম্পানি থার্মাল কয়লা নিয়ে কাজ করছে। গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, কয়লা শিল্পে বিনিয়োগ প্যারিস জলবায়ু চুক্তি হওয়ার পর থেকে আরো বাড়ছে। গ্লোবাল কোল এক্সিট লিস্ট অনুযায়ী, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি হওয়ার পর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে ১৩৭ গিগাওয়াট। যা সম্মিলিতভাবে জার্মানি, রাশিয়া ও জাপানের কয়লা প্ল্যান্টের সমপরিমাণ। পাইপালাইনে আছে আরো ৫০০ গিগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন প্রকল্প।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল উৎস হয়ে উঠছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। এ কারণে সারাবিশ্বে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন। তবে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় এশিয়ায় বাড়ছে কয়লানির্ভরতা। এ কারণেই ব্যাংকগুলো ঋণ সহায়তা দিচ্ছে এ প্রকল্পে। জাতিসংঘ বলছে, বিষয়টা আশঙ্কাজনক, এখনই কয়লার ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। না হলে পরিবেশ দূষণ কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী, বিশ্ব উষ্ণায়ন দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে হবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে কয়লার উৎপাদন ও ব্যবহার বছরে ১১ শতাংশ কমিয়ে আনতে হবে।

কয়েক বছর ধরে অনেক ব্যাংকই পরিবশে দূষণে সহায়ক এমন প্রকল্পগুলোতে ঋণ সহায়তা বন্ধ রেখেছে। আর্কটিক ড্রিলিং প্রকল্পে ঋণ দেয়নি গোল্ডম্যান স্যাকস। কয়লাভিত্তিক প্রকল্পে ঋণ বন্ধ করেছে জেপি মরগান। আরো ৮৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক কয়লা নীতি মেনে চলতে সম্মতি জানিয়েছে। এই নীতিতেও আছে ফাঁকফোকর।
পরিবেশবিদরা বলছেন, পরিবেশ রক্ষায় বিশ্বের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top