ঢাকা রবিবার, ১৮ই এপ্রিল ২০২১, ৬ই বৈশাখ ১৪২৮


বন্ধ হয়ে গেছে শতাধিক কিলোমিটার নৌপথ


প্রকাশিত:
২৩ মার্চ ২০২১ ১৮:৪২

আপডেট:
১৮ এপ্রিল ২০২১ ১১:৩০

কচুরিপানায় ভরে গেছে ফকিরানী-বারনই নদীর প্রায় শতাধিক কিলোমিটার নৌপথ। রাবার ড্যামের কারণে এই দুই নদীতে গড় পানির উচ্চতা ১৫ থেকে ২০ ফিট থাকলেও কচুরিপানার কারণে স্থানীয়ভাবে এই নৌপথ ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ইট পাথর বালি সিমেন্ট বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়ার কাজে সড়ক পথ ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে দ্বিগুণ।

বাগমারা কৃষি বিভাগ ও বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রকল্প (বিএমডিএ) সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর আত্রাই নদীর একটি শাখা মান্দার জোতবাজার হয়ে বাগমারায় প্রবেশ করেছে ফকিরানী নদী নাম ধারণ করে। নদীটি বাগমারা থানা সংলগ্ন স্থানে বারনই নদীতে মিশেছে। মান্দা থেকে বাগমারা থানা পর্যন্ত নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ কি.মি.। পরে বারনই নদীটির পূর্ব অংশ তাহেরপুর নলডাংগা ও নাটোরের সিংড়া হয়ে যমুনা নদীতে মিশেছে এবং পশ্চিম অংশ রাজশাহীর নওহাটা হয়ে মিশেছে পদ্মা নদীতে। নদীটির এই দুই অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ থেকে ৯০ কি.মি.। দীর্ঘ এই নদী পথ এখন কচুরিপানায় ভরপুর। ফলে এখানকার নৌপথ এখন অচল।

আগে এই নৌপথ ধরে সুদূর রাজশাহী নওগাঁ নাটোর এই তিন জেলার মদ্যে অতি সহজে নৌপথে ইট বালি সিমেন্টসহ বিভিন্ন ভারী পণ্য অতি সহজে ও কম খরচে আনা নেওয়া করা যেত। এখন কচুরিপানায় কারণে এসব পণ্য এখন সড়ক পথে আনা নেওয়া করতে হচ্ছে। এতে নৌপথের তুলনায় খরচ অনেক বেশি হচ্ছে।

ভবানীগঞ্জ বাজার ও তাহেরপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, তারা রাজশাহী ও নওগাঁ থেকে বিভিন্ন পণ্য এই নৌপথে আনা নেওয়া করত। এখন কচুরিপানার কারণে নদী পথে আর নৌকা চলাচল করতে পারে না। ফলে তাদের সড়ক পথে এসব পণ্য আনা নেওয়া করতে হয়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে এই সময়ে উভয় নদী সম্পূর্ণ শুকিয়ে যেত। পরে নাটোরের নলডাংগায় রাবার ড্যাম দেওয়ার কারণে এই নদীতে সারা বছর পানি থাকে। ফলে তারা অনায়াসে সেচ কাজ চালাতে পারেন। অনেকে নদীর পানি পুকুরে নিয়ে মাছ চাষেরও সুবিধা ভোগ করছেন।

বাগমারা বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রকল্পের (বিএমডিএ) উপসহকারি প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, রাবার ড্যামের কারণে পানি স্থির থাকায় কচুরিপানা হয়েছে। রাবার ড্যাম খুলে দিলে নদীতে স্রোতের সৃষ্টি হলে কচুরিপানা আর থাকবে না। তবে রাবার ড্যামের কারণে নদীতে এখন সারা বছর পানি থাকায় কৃষি ও মাছ চাষে এলাকার লোকজন ব্যাপক উপকৃত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাগমারা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজিবুর রহমান জানান, রাবার ড্যামের কারণে নদীর দুই পারের কৃষকরা ভূ-উপরস্থ পানি দিয়ে কৃষি জমিতে অতি সহজে সেচ দিতে পারছে। এতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে এবং জমির উর্বরতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে রাবার ড্যাম খুলে দিলে এসব কচুরিপানা ভেসে যাবে।


বিষয়: নৌপথ



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top