সিরাজগঞ্জে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌ চাষিরা

পরিবেশ ডেস্ক: বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে শুধুই সরিষার ক্ষেত। এসব ক্ষেতে ফুটেছে হলুদ ফুল। চারদিকে চোখ ধাঁধানো হলুদ রঙের ছড়াছড়ি। মধুর সন্ধানে সরিষা ক্ষেতে ফুল থেকে ফুলে ছুটে বেড়াচ্ছে অসংখ্য মৌমাছি। ক্ষেতের আইলে সাজিয়ে রাখা মৌ বাক্সে মৌমাছি ঢুকছে, বের হচ্ছে। এমন দৃশ্য সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ফসলি মাঠের।
সরিষা মৌসুমে সেখানে মৌ খামার স্থাপন করেছেন মৌ চাষিরা। তবে চলমান শৈত্যপ্রবাহে মৌ বাক্সগুলোতে চাহিদামতো মধু উৎপাদন হচ্ছে না বলে দাবি মৌ চাষিদের। এতে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা। সরেজমিন দেখা গেছে, চলনবিল অঞ্চলসহ জেলার বিস্তীর্ণ মাঠে সরিষাক্ষেতে হলুদের সমারোহ। এসব ক্ষেতের পাশে বসানো হয়েছে সারি সারি মৌ বাক্স। মৌমাছির গুনগুন শব্দে মুখরিত চারদিক। মৌ চাষিরা সামান্য পরিমাণ মধু সংগ্রহও করছেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে সংগ্রহ করা উন্নতমানের মধু পাইকারি ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধু শিল্পের উন্নয়নের জন্য আর্থিক ঋণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানিয়েছেন মৌ চাষিরা।
এদিকে চলতি শৈত্যপ্রবাহে চাহিদামতো মধু তৈরি হচ্ছে না বলে জানিয়েছে মৌ চাষিরা। আদর্শ মৌ খামারের মালিক শহিদুল ইসলাম জানান, সরিষার মৌসুমে ২৫০টি মৌ বাক্স থেকে প্রতি সপ্তাহে ৮-১০ মণ মধু সংগ্রহ করা যায়। মৌ বাক্স স্থাপনের কারণে সরিষার ফলনও বৃদ্ধি পায়। খাঁটি মধু কিনতে অনেকেই চলে আসে মাঠে। কিন্তু শৈত্যপ্রবাহের কারণে বর্তমানে তুলনামূলক কম মধু উৎপাদন হচ্ছে।
মৌ চাষি আশরাফুল ইসলাম জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মধু সংগ্রহ করতে আসে মধু পাইকারি ব্যবসায়ীরা। মধু সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় কাক্সিক্ষত দামও পাওয়া যাচ্ছে না।
মধু কিনতে আসা আল আমিন জানান, প্রতিবছরই আমি খামার থেকে ভেজালমুক্ত মধু সংগ্রহ করি। এ বছর প্রায় ১০ কেজি মধু সংগ্রহ করব। এই মধু সারা বছর পরিবার নিয়ে ব্যবহার করে থাকি। খামারে এলে ভেজালমুক্ত মধু পাওয়া যায়।
সিরাজগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মধু সংগ্রহে সারা দেশের মধ্যে প্রথম হওয়ার উদ্দেশ্যে এ বছর প্রায় ২০ হাজার মৌ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। তবে মধুর কাক্সিক্ষত দাম না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় মৌ চাষিরা।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক (ডিডি) মো. হাবিবুর হক জানান, চলতি বছর জেলায় ৫০ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৩শ’ হেক্টর বেশি। ফলে জেলায় এ বছর প্রায় ২শ’ টন মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সারা দেশের মধ্যে এ বছর জেলায় সর্বোচ্চ মধু উৎপাদন হওয়ার আশা করছি।
বিষয়:
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: