ঢাকা সোমবার, ৩১শে মার্চ ২০২৫, ১৮ই চৈত্র ১৪৩১


যে কারনে ভরা মৌসুমেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ


প্রকাশিত:
১৯ আগস্ট ২০২৪ ১৯:২১

আপডেট:
৩১ মার্চ ২০২৫ ০৯:২৬

দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে পরে বিদেশে ইলিশ রপ্তানি হবে- এমন খবরে স্বস্তি মেলেছে কম আয়ের মানুষের। কিন্তু ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও নদ-নদীতে জেলেদের জালে তেমন ইলিশ ধরা পড়ছে না। স্থানীয় হাট-বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম। মৎস্যসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত পটুয়াখালীর নদী ও সাগর তীরবর্তী রাঙ্গাবালী উপজেলা ঘুরেও দেখা যায় এমন চিত্র।

এর কারণ খুঁজতে গেলে জানা যায়, সমুদ্রগামী বেশিরভাগ জেলে-ট্রলার মালিকরা বঙ্গোপসাগর পার্শ্ববর্তী কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর-আলিপুর মৎস্য বন্দরের মহাজনদের কাছ থেকে দাদন এনে ব্যবসা করেন। এ কারণে মহাজনদের মালিকানাধীন কিংবা তাদের নির্ধারিত মৎস্য আড়তেই মাছ বিক্রি করতে হয় তাদের। এ কারণে স্থানীয় বাজারগুলোতে সাগরের ইলিশ সরবরাহ নেই বললেই চলে।

খুচরা বাজার ঘুরে জানা যায়, নদ-নদীতে ক্ষুদ্র জেলেদের ধরা ইলিশ পাইকারদের মাধ্যমে হাত বদলে বাজারে ওঠে। বাজারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় দাম নাগালের বাইরে- বলছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

তবে জেলে পর্যায় থেকে ইলিশের দাম কেন কমছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেদের বরাত দিয়ে কোড়ালিয়া মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জহির হাওলাদার বলেন, ‘ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়ে জেলেরা মাছ ধরেন। সেক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের দাম বেশি। নিত্যপণ্যের বাজার চড়া। মাহজনের দাদন, ঋণের কিস্তি এবং পরিবারের খরচ মেটাতে হয় জেলেদের। সবকিছুর দাম নিয়ন্ত্রণে এলে জেলেরাও কম দামে মাছ বিক্রি করতে পারবে।’

এ ব্যাপারে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, একোয়াকালচার ও মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, এখন ইলিশের মৌসুম। কিন্তু প্রচুর পরিমাণে ইলিশ যে ধরা পড়ছে, বিষয়টা এমন নয়। নদ-নদীতে ইলিশ খুবই কম ধরা পড়ছে। এর পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরেও ঠিকমতো মাছ ধরতে পারছেন না জেলেরা। তাই বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম। এ কারণে দাম বেশি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি-বৈরী আবহাওয়া শেষে জেলেদের জালে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়বে। জেলেরা লাভবান হবেন। তখন দামও কমবে। কিন্তু নিত্যপণ্য এবং জ্বালানি তেলের দাম না কমিয়ে মাছের দাম কমালে জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।   




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top