ঢাকা শুক্রবার, ১২ই জুলাই ২০২৪, ২৯শে আষাঢ় ১৪৩১


বিদেশি ফলে ভরছে দেশের মাঠ, ৫টির চাষ সবচেয়ে বেশি


প্রকাশিত:
২০ জুন ২০২৪ ১৭:৫৯

আপডেট:
১২ জুলাই ২০২৪ ২১:০০


মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার ফল ড্রাগন। কয়েক বছর আগেও দেশে আমদানি করতে হতো। চড়া দামে মিলত অভিজাত ফলের দোকানে। ক্রেতারা ছিলেন উচ্চবিত্তের। দাম কমায় বড়লোকের সেই ফল এখন মধ্যবিত্ত, এমনকি নিম্নবিত্তের মানুষও চাইলে মহল্লার দোকান থেকে কিনতে পারছেন। এর কারণ, ড্রাগন ফল এখন চাষ হচ্ছে দেশেই। ড্রাগনসহ ৩৪টি বিদেশি ফল এখন দেশেই চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে আটটির চাষ হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে। লাভ হওয়ায় চাষ বাড়ছে। দেশে এসব ফল মেলায় কমেছে আমদানি। সাশ্রয় হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে বর্তমানে ৭২ রকমের ফল চাষ হচ্ছে। এর প্রায় অর্ধেকই বিদেশি ফল। বর্তমানে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বিদেশি ফলের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে ড্রাগনের। দেশে উৎপাদিত বিদেশি ফলের বাজারমূল্য প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক হামিদুর রহমান বলেন, ‘বিদেশি ফল দেশের মানুষের ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করছে। কিন্তু আমাদের আদি ফলগুলোর জাত উন্নয়ন করা জরুরি। তা না করা হলে বিদেশি ফলের আড়ালে দেশি ফল হারিয়ে যাবে। তথ্য অনুযায়ী, ৩৮ জেলায় বিদেশি বিভিন্ন ফলের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৬ জেলায় হচ্ছে ড্রাগন ফলের চাষ। মাল্টা ২৮ জেলায়, কমলা ২১ জেলায়, স্ট্রবেরি ১৩ জেলায়, রকমেলন ৭ জেলায় এবং থাই পেয়ারা ও সৌদি খেজুর চাষ হচ্ছে ৬ জেলায়।

দেশে চাষ হওয়া অন্য বিদেশি ফলগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাম্বুটান; মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার ফল অ্যাভোকাডো; ভিয়েতনামের ছোট জাতের নারকেল, আম; চীনের পার্সিমন, লংগান (কাঠলিচু), বারোমাসি আঠাবিহীন কাঁঠাল, এমবি২ আনারস, থাই কুল, থাই পেঁপে, থাই সফেদা, আঙুর, নাশপাতি, জাবটিকাবা, সুইট লেমন, থাই মিষ্টি তেঁতুল, তিন, গোল্ডেন ক্রাউন বা হলুদ তরমুজ, মালবেরি, আপেল, করোসল ইত্যাদি। এ ছাড়া বিদেশি কাজুবাদাম ও আলুবোখারাও দেশে চাষ হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের বিদেশি ফল আমদানি হয়েছে। এসব ফলের মধ্যে রয়েছে খেজুর, আঙুর, কমলা, নাশপাতি ও আপেল। ধারণা করা হয়, দেশে বছরে বিদেশি ফলের বাজার ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘দেশে বিদেশি ফল উৎপাদনে আমরা দুইভাবে লাভবান হচ্ছি। একদিকে তাজা ফল পাচ্ছি। ফলের বৈচিত্র্য বেড়েছে। অন্যদিকে গত পাঁচ বছরে বিদেশ থেকে ফল আমদানি তুলনামূলক কম হয়েছে।’ তাঁর মতে, বিদেশি ফল উৎপাদন বাড়াতে সরকারের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।


বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top