কুড়িগ্রামে আমনের ব্যাপক ক্ষতি

পরিবেশ টিভি: বাতাসে হেলে পড়া ধানগুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়ায় কুড়িগ্রামে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আমনের শীষ আসার আগ মহূর্তে ধান গাছ পড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। অনেকে কাঁচা ধান গাছ কেটে গবাদি পশুর খাবারের জন্য সংগ্রহ করছেন।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রর তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলায় ১৮ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কুড়িগ্রামের কয়েকটি উপজেলায় খবর নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়ায় প্রায় প্রতিটি উপজেলার কয়েকশ হেক্টর জমির আমন ক্ষেতের ধান গাছ ভেঙে হেলে পড়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকরা মারত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিছু কিছু জমিতে পানি থাকায় ধান গাছ পচে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা কাঁচা ধান গাছ কেটে নিচ্ছেন।
ফুলবাড়ী উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের শতাধিক হেক্টর জমির আমন ক্ষেত মাটিতে হেলে পড়েছে। অনেক ক্ষেতে পানি জমে থাকায় হেলে পড়া ধানের শীষ পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া দমকা বাতাসে বেগুন, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, লালশাকসহ অন্যান্য শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ জানান, এই মৌসুমে উপজেলায় ১১ হাজার ৮১৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। গত দুই দিনের বৃষ্টিপাত ও দমকা বাতাসে ৩০ থেকে ৩৫ হেক্টর আমন ধান মাটিতে হেলে পড়েছে।
এদিকে কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারীসহ উলিপুর ও চিলমারী উপজেলায় আমন ধান ও সবজি ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
নাগেশ্বরী পৌর এলাকার কৃষক আল-আমিন জানান, শুক্রবার রাতের ঝড়ো হাওয়ায় তার কয়েকটি জমির আমন ধান হেলে পড়েছে। জমিতে পানি থাকায় হেলে পড়া ধান গাছ পচে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি তা গবাদি পশুকে খাওয়ানোর জন্য কেটে নিচ্ছেন।
একই এলাকার কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, ‘একটা মাত্র জমি। তারও ধান গাছ ঝড়োত পড়ি গেইছে। তাকে দাড় করি দিয়া বান্দি দিবার লাগছি। ধান না হইলে খামো কি!’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (খামার বাড়ি) উপ-পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর পাইনি।’
বিষয়:
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: