ঢাকা শনিবার, ২১শে মে ২০২২, ৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

রাতারগুলে ফিরেছে শামুকখোল পাখি


প্রকাশিত:
২৯ জানুয়ারী ২০২২ ২০:২৮

আপডেট:
২১ মে ২০২২ ০৬:২৯

শামুকখোল পাখি অনেকটা বকের মতো দেখতে লম্বা ঠোঁট ওয়ালা।

পানি আর বনের এমন প্রাকৃতিক যুগলবন্দীকে বলা হয় জলাবন। শীতকালে বনের সরু বাঁকানো খালগুলোতে নৌকা চলাচলের উপযোগী পানি আছে। খালের দুপাশে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা হিজল-করচগাছের ডালগুলোয় ঠাঁই মিলেছে অসংখ্য পাখির। পাখিগুলোর কোনোটি গাছের কচিপাত ঠুকরিয়ে খাচ্ছে, কোন কোনটি আবার একে অপরের সাথে মিতালী করছে। পর্যটকদের নৌকার শব্দ পাওয়া মাত্রই দল বেঁধে উড়াল দিচ্ছে পাখিগুলো। দৃশ্যটি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত জলমগ্ন বন রাতারগুলের।

এই পাখিগুলোর নাম আসলে শামুকখোল। ২০১৩ সালের পর প্রায় ৭ বছর এর মধ্যে কমবেশি আসলেও  ২০২০ ও ২০২১ সালে এই পাখি বেশি দেখা গিয়েছিল রাতারগুল। করোনাকালীন সময়ে রাতারগুলে পর্যটকদের আসা অনেকটা কম ছিলো। ফলে বুনো পরিবেশ ফিরে পাওয়া বনে শামুকখোল পাখির উপস্থিতি একেবারে চোখ ধাঁধাঁনো। শামুকখোল পাখি বেশি দেখা যায় সকাল ও বিকেলে। দুপুরে এদের আনগোনা কম থাকে। সারাদিন হাওরে খাবার খেয়ে শামুকখোল পাখি নিরাপদে বনে ফিরে আসে। যদিও আগে পাখি শিকারীদের হাতে ধরা পড়তো অনেক। তবে বন বিভাগের তৎপরতার কারণে এখন আর পাখি শিকারী তেমন দেখা যায়না। তাই অনেক নির্বিঘ্নেই দিন কাটায় পাখিগুলো। শীতের রাতারগুল যেন পাখির রাজ্য।

স্থানীয় লোকজনের শামুকখোল পাখিকে বলে, ‘হামুকখাউড়ি’। সিলেট অঞ্চলে শামুকখোল পাখি ‘হামুকখাউড়ি’ নামেই আসলে পরিচিত। মিঠাপানির হাওর, বিল-ঝিলের শামুক ভেঙে এর ভেতরের অংশ খাওয়ার কারণেই এই পাখিকে স্থানীয়রা এই নামেই ডাকে।

শামুকখোল পাখির এমন অবাধ বিচরণে জলমগ্ন বন রাতারগুল ‘প্রাণ’ ফিরে পাচ্ছে বলে মনে করছেন পরিবেশকর্মীরা। সিলেটের পরিবেশ সংগঠন ‘ভূমিসন্তান বাংলাদেশ’-এর প্রধান সমন্বয়ক আশরাফুল কবির বলেন, রাতারগুলে শামুকখোল পাখি ফিরে এসেছে, এটা অবশ্যই একটা সুখবর। ভ্রমণে আসা পর্যটকদের সচেতন ও চলাচল নিয়ন্ত্রিত করা গেলে শুধু শামুকখোল পাখিই নয়, এরকম অনেক ধরনের পশু-পাখির দেখা পাওয়া যাবে।

শামুকখোল পাখ মূলত দুটি প্রজাতির হয়ে থাকে, একটি এশীয়, আরেকটি আফ্রিকান। বাংলাদেশে মূলত এশীয় শামুকখোলের বিচরণ। শামুকখোল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Anastomus oscitans। দুর্লভ আবাসিক শামুকখোল পাখি বর্তমানে বন্য প্রাণী আইনে সংরক্ষিত পাখির তালিকায় স্থান পেয়েঠে। শামুকখোল পাখির গায়ের রং ধূসর সাদা। কাঁকড়া, মাছ, জলজ প্রাণী, ব্যাঙ পাখিটির প্রধান খাদ্য। ভারী ও লম্বা ঠোঁট দেখতে অনেকটা বকের মতো।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top