ঢাকা সোমবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ই আশ্বিন ১৪২৮

চা বাগানে ঘেরা হ্রদের শহর মিরিক


প্রকাশিত:
৬ আগস্ট ২০২১ ২৩:৫৩

আপডেট:
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৬:৩৬

দার্জিলিং জেলার পাহাড়ে অবস্থিত একটি অপূর্ব সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য শোভিত স্থান মিরিক। মিরিক শব্দটি এসেছে লেপচা শব্দ 'মির-ইয়ক' থেকে। এর অর্থ 'আগুনে পুড়ে যাওয়া স্থান'। মিরিক শহরটির অবস্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ হল ২৬.৯° উত্তর ৮৮.১৭° পূর্ব। সমূদ্র সমতল থেকে মিরিকের গড় উচ্চতা ১৪৯৫ মিটার (৪৯০৫ ফুট)। এখানকার উচ্চতম স্থান বোকার গোম্ফার উচ্চতা প্রায় ১৭৬৮ মিটার (৫৮০১ ফুট) । নিম্নতম স্থান মিরিক লেক ১৪৯৪ মিটার (৪৯০২ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত।

কলকাতা থেকে ট্রেন, বাসে পৌঁছতে হবে শিলিগুড়ি। বিমানে বাগডোগরা পৌঁছতে বেশি সময় লাগে না। শিলিগুড়ি থেকে ৫২ এবং বাগডোগরা থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরত্ব অবস্থিত মিরিকে পৌঁছনো যায় সড়ক পথে। সঙ্গী হয় বাস কিংবা প্রাইভেট বা ভাড়া করা গাড়ি। পথিমধ্যে পার্বত্য শোভা পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

মনোরম আবহাওয়া, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সুগম হওয়ার কারণে মিরিক একটি পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এখানকার মূল আকর্ষণ সুমেন্দু হ্রদ। হ্রদের একদিকে বাগান, অন্য দিকে পাইন গাছের সারি।

কয়েক বছর আগে পর্যটকরা কেবল দার্জিলিং যাওয়ার পথেই ঢুঁ মারতেন হ্রদের শহর মিরিকে। মায়াবী প্রকৃতি, সুমেন্দু হ্রদে নৌকোবিহার, সুস্বাদু খাবারদাবার – সবই উপভোগ করার মতো। কিন্তু রাতে থাকতেন না। এখন অবশ্য পরিস্থিতি বদলেছে।

চারদিকে ঘিরে আছে বিখ্যাত সব চা বাগান – সৌরিনী, থুর্বো, গোপালধারা, ফুগুরি। মনের প্রশান্তি চাইলে কিছুক্ষণ বসতে পারেন তিব্বতি বৌদ্ধ মঠ বোকার গুম্ফায়। পাইনের ঘন অরণ্যে গেলে ইচ্ছে করবে রহস্যময়ী প্রকৃতির মধ্যে হারিয়ে যেতে। রামিতে দারা ভিউ পয়েন্ট থেকে চোখে পড়বে রাজকীয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। আরও বেশ কিছু ভিউ পয়েন্ট রয়েছে, যেগুলো থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের অপরূপ শোভা চাক্ষুষ করতে পারবেন।

তবে প্রধান আকর্ষণ সুমেন্দু হ্রদ। তাকে ঘিরে সাবিত্রী পুষ্পোদ্যান নামের বাগান। নেতাজি সুভাষচন্দ্রের আজাদ হিন্দ ফৌজে অংশ নিয়ে যুদ্ধে শহিদ হন সাবিত্রী থাপা।তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এই নাম রাখা হয়েছে। হ্রদের দু’ধারে পাইন গাছের জঙ্গল। ইন্দ্রেনি পুল নামের একটি বাঁকানো সেতু দিয়ে জুড়ে আছে দুই পাড়। আজাদ হিন্দ ফৌজের আরেক শহিদ ইন্দ্রেনি থাপার স্মরণে এই সেতু। প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার লম্বা রাস্তা ঘিরে আছে হ্রদকে। একা বা কোনও সঙ্গীকে নিয়ে হাঁটলে বেশ মজা পাবেন। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দিগন্তে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়।

মিরিকে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ শুরু হয় ১৯৬৯ সালে। থুর্বো চা বাগান থেকে ৩৩৫ একর জমি কিনে নেয় পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তর। কয়েক বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন উপলব্ধি করতে পারে, বিশ্বমানের ট্যুরিস্ট স্পট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে মিরিকে। পর্যটকদের কাছে ছোট্ট এই শহরকে আরও লোভনীয় করে তোলার কাজ চলছে।


বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top