ঢাকা শুক্রবার, ১২ই জুলাই ২০২৪, ২৯শে আষাঢ় ১৪৩১

সিলেটে সব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি


প্রকাশিত:
১৮ জুন ২০২৪ ১৮:০৮

আপডেট:
১২ জুলাই ২০২৪ ২০:২৭

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যার ক্ষত শুকানোর আগেই সিলেটে ফের বন্যা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের সবকটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
 ১৮ জুন, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, সারিগোয়াইন, ধলাই ও লোভাছড়াসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকায় পানি প্রবেশের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলাসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার বেশকিছু পরিবার এরই মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। এছাড়াও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন জেলার বিভিন্ন উপজেলার অসংখ্য মানুষ। তবে সোমবার বিকেল থেকে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমায় সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতাও কমতে শুরু করেছে।

এদিকে, টানা ভারী বৃষ্টিতে নদী ও ছড়া উপচে পানি নগরীতে প্রবেশ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে সিলেট নগরীর ভেতরে অনেক বাসাবাড়িতে পানি উঠেছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ৯টা সুরমা নদীর কানাই পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩৩সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর সিলেট পয়েন্টে ২২ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

জকিগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর অমলসীদ পয়েন্টে ১৫সেন্টিমিটার ও একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৭৯ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সারি নদীর পানি সারিঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৫সেন্টিমিটার ও সারি গোয়াইন নদীর পানি গোয়াইনঘাট পয়েন্টে ১৬সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসেন জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘন্টায় (সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টায়) সিলেটে ১৫৩ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ও সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৪৪মিলি মিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এদিকে, ভারতের আইএমডি'র তথ্যমতে গত ২৪ ঘন্টায় ৩৯৫ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ভারতের মেঘালয়ে বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতে বৃষ্টিপাত কমে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

অপর দিকে, গোয়াইনঘাট উপজেলায় পানি বৃদ্ধি পাওয়া বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে বলে জানা গেছে । সেখানকার উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুল ইসলাম ক্ষুদে বার্তায় ইতোমধ্যে সসংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য বলেছেন। পাশাপাশি উদ্ধার কাজ, আশ্রয় কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা খাবার, ত্রাণ বিতরণ বিষয়ে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।


বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top