ঢাকা রবিবার, ২৩শে জুন ২০২৪, ১০ই আষাঢ় ১৪৩১

বাঘ-সিংহ নয়, মানুষের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী মশা


প্রকাশিত:
১৮ মে ২০২৪ ১৪:৩০

আপডেট:
১৮ মে ২০২৪ ১৪:৩৯

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রাণী কোনটি? এমন প্রশ্নের উত্তরে বেশিরভাগ সময়েই মনে আসে সাপ, কুমির, বাঘ নেকড়ে কিংবা হাঙ্গরের কথা। এই প্রাণীগুলো কিন্তু মানুষকে খুঁজে খুঁজে আক্রমণ করে না বা মেরে ফেলে না। এদের কাছে গেলে বা এদের বিরক্ত করলেই সাধারণ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে।

কিন্তু যদি জানতে চাওয়া হয় মানুষের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী কোনটি? তাহলে বেশিরভাগ মানুষই চিন্তায় পড়ে যাবেন। প্রশ্নের উত্তর মাথা ঘামিয়েও যেতে পারে। যদি আপনি মনে মনে সাপ, বিছা, চিতাবাঘ, ভল্লুক বা সিংহের কথা ভেবে থাকেন, তাহলে ভুল করছেন। আসলটি জানতে চমকে উঠবেন।

সম্প্রতি ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসি সায়েন্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি হিসাব অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রায় ১২ লাখ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে থেকে মানুষের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী হিসাবে ধরা হচ্ছে ক্ষুদ্রাকৃতির মশাকে। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন মানুষের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণীর নাম- মশা।

জানলে অবাক হতে হবে যে, আমাদের বাড়ির আশেপাশে থাকা এই ছোট্ট পতঙ্গ প্রজাতির এই প্রাণীটিই বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষকে শিকার করে। তাই মশা মানুষের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী। প্রতি বছর গোটা বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী এই মশা।

মশা মানুষের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতি প্রাণী, যা ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ বহু ধরনের রোগ ছড়ায় এবং প্রতি বছর সাত লাখ ২৫ হাজার মানুষকে হত্যা করে। এই ক্ষুদ্রতম আকারের প্রাণীটির সারা বিশ্বে তিন হাজারেরও বেশি প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে কোন কোনটি ভয়ঙ্কর সব প্রাণঘাতী ভাইরাস বহন করে বেড়ায়।

অ্যানোফিলিস, কিউলেক্স, এডিস, হেমাগোগাস প্রভৃতি রোগ সংক্রমণের চলক হিসেবে কাজ করা মশাদের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য। সাধারণভাবেও এগুলোই সবচেয়ে বেশি পরিচিত। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, এনসেফালাইটিস, হলুদ জ্বর, জিকা ভাইরাসের মতো রোগ মশার কামড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

তাই মশা আমাদের জন্য অন্যতম আতঙ্কের নাম। অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা তাদের কবলে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে, আফ্রিকার দেশগুলোতে এদের প্রকোপ অনেক বেশি। আর বিশ্বে মশার কামড়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু এখানেই ঘটে। বিশ্বের ৯৬ শতাংশ মৃত্যু আফ্রিকান অঞ্চলে মশার কারণে ঘটে।

মশা এক ধরনের ছোট মাছি প্রজাতির পতঙ্গ। ‘প্রজাতি’। কথাটা হয়তো পুরোপুরি ঠিক নয়, বৈজ্ঞানিকভাবে বললে, একই বর্গের কীট। বর্গের নাম, ডিপটেরা। এটি মূলত মাছির বর্গ। বেশিরভাগ প্রজাতির স্ত্রী-মশা স্তন্যপায়ী প্রাণীর রক্ত পান করে। আর এর মাধ্যমেই জীবাণু ছড়িয়ে দেয়।

মশাদের মধ্যে পুরুষ মশা কেবল একদিন বাঁচে। যেগুলো একদিনের বেশি বাঁচে, তাদের পরিস্থিতি একেবারে নাজুক হয়ে পড়ে। আর নারী মশা বেঁচে থাকে সচরাচর ৬-৮ সপ্তাহ। এই ছোট মাছি প্রজাতির পতঙ্গ দীর্ঘ আড়াই হাজার বছর ধরে পৃথিবীর বুকে টিকে আছে।

মশা গাছের মিষ্টি নির্যাস, ফুলের মধু ইত্যাদি খেয়ে বাঁচে। পুরুষ মশা এগুলোই খায়। স্ত্রী মশারাও খায়। কিন্তু স্ত্রী মশা মানুষ বা প্রাণীর রক্তও খায়। মূলত ডিম উৎপাদনের জন্য এদের রক্তের প্রয়োজন হয়। মানুষের রক্তই বেশি খায়। এজন্য দূর থেকে বা অন্ধকারে মানুষকে খুঁজে বের করার বাড়তি ক্ষমতা রয়েছে স্ত্রী মশাদের।

মশারা আমাদের শরীরের তাপমাত্রা এবং আমরা যে কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করি তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাদের সংক্রমণ প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হল মশারি ব্যবহার করা। ঘরে জীবাণুনাশক স্প্রে করা। বাড়ির আশেপাশে পানি জমতে দেয়া যাবে না। বিশেষ করে গরম ও বৃষ্টির দিনে মশার প্রকোপ বেশি থাকে।

 


বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top