ঢাকা রবিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪ই ফাল্গুন ১৪৩০


মিধিলির প্রভাবে মাটিতে মিশে গেছে রাজশাইল ধান, সাহায্যও পাচ্ছেন না কৃষকেরা


প্রকাশিত:
২৭ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:৩৭

আপডেট:
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২৩:৫৪

মাটিতে মিশে রয়েছে ধানগাছ। কোথাও ধানখেত ডুবে আছে পানিতে। তবু ক্ষতিগ্রস্ত খেত থেকে ধান সংগ্রহের চেষ্টায় রয়েছেন কৃষকেরা। এমনই চিত্র চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায়।

জোয়ারের কারণে লবণাক্ত পানিতেও টিকে থাকে, তাই কৃষকেরা রাজশাইল ধান চাষ করেছিলেন এসব জমিতে। আর সপ্তাহখানেক পর এসব ধান ঘরে তোলার কথা। তবে ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় মিধিলি যে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে, তার থেকে রক্ষা পায়নি রাজশাইল ধানও। সন্দ্বীপের ৬৪০ হেক্টর জমির রাজশাইল ধান নষ্ট হয়ে গেছে পুরোপুরি। এসব জমিতে ধান চাষ করা কৃষকেরা সর্বস্বান্ত হলেও প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সহায়তা বা ত্রাণ পাননি। নির্বাচনের কারণে বন্ধ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমও।

সন্দ্বীপে রাজশাইল ধান মূলত চাষ হয় বাউরিয়া, কালাপানিয়া, সন্তোষপুর, মুছাপুর, মগধরা ও উড়িরচর ইউনিয়নে। সম্প্রতি বাউরিয়া ইউনিয়নের কুচিয়ামোড়া বিলের কৃষক মোহাম্মদ ছোটন বলেন, সাড়ে ছয় একর জমিতে চাষ করেছেন তিনি। সব ধান পরিপক্ব হওয়ায় কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এর মধ্যেই ঘূর্ণিঝড়ে তাঁর অর্ধেক জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

একই এলাকার কৃষক মো. সালেহ নোমান বলেন, তিনি ১৫ বিঘা জমিতে রাজশাইল ধান চাষ করেছিলেন। এর মধ্যে সাত বিঘা জমির ধান একেবারে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। সব ফসল ঘরে তুলতে পারলে ৪০০ মণ ধান পাওয়া যেত। এখন অর্ধেকের মতো ধান পাওয়া যাবে। তবে নতুন করে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমিকসংকট। ডুবন্ত পানির ধান শ্রমিকেরা কাটতে চান না। যাঁদের পাওয়া যাচ্ছে, তাঁরাও বেশি মজুরি চাচ্ছেন।

উড়িরচর এলাকার কৃষক মিলাদ দ্বীপরাজ বলেন, তিনি ঘূর্ণিঝড়ের আগেই ধান কাটা শুরু করেছিলেন, কিন্তু ঘরে তুলতে পারেননি। এখন সব ধান থেকে চারা গজিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে ১১০ হেক্টর রাজশাইল ধান পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর বাইরে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৫৩০ হেক্টর রাজশাইল ধানের খেত।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মারুফ হোসাইন বলেন, ঘূর্ণিঝড় মিধিলি আঘাত হানার পর ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন তিনি।

ঘূর্ণিঝড় মিধিলিতে সন্দ্বীপে সবচেয়ে বেশি কৃষি খাতে ক্ষতি হয়েছে বলে জানান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য সার-বীজসহ অনুদান এলে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে তা বিতরণ করা হবে।

তবে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে সরকার সব ধরনের ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জেলা প্রশাসক এবং নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচন প্রভাবমুক্ত রাখা এবং আচরণবিধি পালনের জন্য নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের ত্রাণ দেওয়া যাবে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আপাতত সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ নেই।


বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top