ঢাকা রবিবার, ২৩শে জুন ২০২৪, ১০ই আষাঢ় ১৪৩১


কৃষকের স্বপ্নে মিধিলির আঘাত


প্রকাশিত:
১৯ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:৩৯

আপডেট:
২৩ জুন ২০২৪ ০৮:১০

ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলির’ তাণ্ডবে পাকা-আধাপাকা আমন ধানের ক্ষেত দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। বিধ্বস্ত হয়েছে অনেক কাঁচা ঘর বাড়ি। জেলেসহ এখনো নিখোঁজ ৩টি ট্রলার। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে শীতকালীন শাকসবজি ও আগাম রবি ফসলের। এতে হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্ন এখন পানির নিচে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাকা, আধা-পাকা আমন ধানের ক্ষেত পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে। অনেক এলাকায় কৃষকরা পানি অপসারণের চেষ্টা করছেন। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইস গেটগুলো দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট ও অকেজো থাকায় পানি অপসারণ হচ্ছে না। দুই দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি আরও দুই-একদিন থাকলে আমন ধান নষ্ট হয়ে যাবে। এই দুশ্চিন্তায় কৃষকদের কপালে হতাশার ভাজ পড়েছে।

বদরপুরে কৃষক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ‘যেকোন বন্যা বা দুর্যোগে শুধু মোগো কৃষকদের ক্ষতি হয় বেশি কিন্তু মোরা কোন সরকারি সাহায্য পাই না। বড় একটা রেন্ট্রি গাছ একটুর জন্য ঘর পাচাইয়া পড়ে নাই।’

পটুয়াখালী জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলার ৮ উপজেলার প্রায় অধিকাংশ জমির পাকা, আধা-পাকা আমন ও ইরি ধান গত দুই দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় আমন ধান বাতাসে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় শীতকালীন আগাম সবজিও ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে জেলায় কী পরিমাণ আমন ধান ও রবি ফসলের ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নির্ধারণ করতে পারেনি জেলা কৃষি বিভাগ। জেলায় কৃষির ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণের কাজ চলছে বলে জানান জেলা কৃষি কর্মকর্তা।

এ বছর অতি বৃষ্টির কারণে সঠিক সময় আমন আবাদ শুরু সম্ভব না হওয়ায় প্রথম দফায় হোচট খায় কৃষকরা। এরমধ্যে জেলার কিছু উপজেলায় আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। এর মধ্যেই আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় মিধিলি। এই ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক জমির ধান মাটির সাথে মিশে পড়েছে। অতি বৃৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।

ঘূর্ণিঝড়ের কয়েক ঘণ্টার তাণ্ডবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে অর্ধশতাধিক কাঁচা ও আদা পাকা টিনসেড ঘরবাড়ি।

জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, পটুয়াখালী জেলায় এখন পর্যন্ত ছয়টি আধা পাকা টিনশেড ঘর ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। ১৩১ টি ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে জেলার সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণের কাজ চলছে।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের খোকন শীল নামের এক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর ধানের ফলন ভালোই ছিল। মোটা আমন ধানে সবে মাত্র ফুল থেকে শিষ আসতে শুরু করেছে। অসময়ে এই ঘূর্ণিঝড়ের কয়েক ঘণ্টার তাণ্ডবে আমাদের বেশিরভাগ ধান গাছ পানিতে ডুবে আছে। যা আর ঠিক হওয়ার সুযোগ নেই। লোন করে যে টাকা ব্যয় করছি, তা উঠানো দায় হয়ে পড়েছে।

জেলায় শীতকালীন সবজি ও আগাম রবি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মুলা, শালগম, ফুলকপি শিমসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করছিল জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা। এসব সবজি এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চাষীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে শীতকালের সবজি ও আগাম রবি ফসল নষ্ট হয়েছে। আগামীতে যার প্রভাব বাজারে পড়বে।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির আঘাতে রোপা আমন, খেসারি, শাক-সবজিসহ বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষি খাতে জেলায় প্রায় ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে মাঠে জমা পানি দ্রুত নামাতে কাজ করার পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা।

জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে ৩০ জেলেসহ তিনটি ট্রলার এখনো নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধার ও তাদের খোঁজ-খবর নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে।


বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top